(দিনাজপুর২৪.কম) ইংল্যান্ডের মাটিতে আরেকটি রেকর্ডময় ওয়ানডে দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ইংল্যান্ড ৪০৮ রান করে ২১০ রানে জিতে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছিল। এবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড দুদলই রেকর্ডময় আরেকটি ম্যাচ উপহার দিল। বৃষ্টিবিঘ্নিত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সফরকারী নিউজিল্যান্ড জিতেছে ১৩ রানে।
তবে এ হারের জন্য ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিকেই দুষলেন ইংলিশ অধিনাক ইয়ন মরগ্যান। ওভালে টস জিতে আগে ব্যাটে গিয়ে সফরকারী নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ৩৯৮ রান সংগ্রহ করে। রানের এ পাহাড় তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত জবাব দেয় ইংলিশরা। অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানের ৪৭ বলে ৮৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৪৩.৫ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলে ফেলে। আদিল রশিদ ২৪ বলে ৩০ ও লিয়াম প্লানকেট ২৬ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। অষ্টম উইকেটে তারা ৭০ রান যোগ করে ইংল্যান্ডকে জয়ের পথ দেখাচ্ছিলেন। স্বাগতিকদের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল ৩৭ বলে ৫৪ রান। যাকে খুব বেশি কঠিন সমীকরণ বলা যায় না। কিন্তু এ সময় বৃষ্টিতে খেলায় ব্যাঘাত ঘটে। বৃষ্টি শেষ হয়ে খেলা শুরু হতে ৫০ মিনিট লেগে যায়। বৃষ্টি শেষে যখন ইংল্যান্ড মাঠে নামে তখন ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিকে তাদের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৩ বলে ৩৪ রান। টার্গেটটা তখন অনেক কঠিন হয়ে যায়। তবে বৃষ্টি থামার পর ৭ বলের মধ্যে আউট হন আবিল রশিদ ও প্লানকেট। এতে জয়ের লক্ষ্য আরও কঠিন হতে থাকে ইংলিশদের। তারপরও ক্রিস জর্ডান ও স্টিভেন ফিন খেলতে থাকেন। শেষ ৭ বলে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। কিন্তু এ দুজন মাত্র ১১ রান তুলতে পারেন। এতে ৪৬ ওভারে ৯ উইকেটে তারা ৩৬৫ রান পর্যন্ত যেতে পরে। আর বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ড জেতে ১৩ রানে। আর এই হারের জন্য ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির দোষ দিয়ে বলেন, ‘ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিই খেলার ভাগ্য পাল্টে দেয়। বৃষ্টির আগে আমাদের জয়ের প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পর তা পাল্টে যায়। তবে দলের খেলোয়াড়দের এমন ম্যাচ উপহার দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’
নিউজিল্যান্ডের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১-এ সমতা বিরাজ করছে। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে আগামীকাল সাউদাম্পটনে। এদিন দুই দল মিলে করে ৭৬৩ রান। যা ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের ঘটনা। আর নিউজিল্যান্ডের ৩৯৮ রান ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বোচ্চ ও সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিন ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যালেক্স হেলস ৪৯ বলে ৫৪, ইয়ন মরগান ৪৭ বলে ৮৮, জস বাটলার ৩৮ বলে ৪১ ও লিয়াম প্লানকেট ৩০ বলে ৪৪ রান করেন। আর কিউইদের হয়ে রস টেইলর ৯৬ বলে ১১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। মার্টিন গাপটিল ৫০ ও কেইন উইলিয়ামসন ৮৮ বলে ৯৩ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড : ৩৯৮/৫ (গাপটিল ৫০, ম্যাককালাম ৩৯, উইলিয়ামসন ৯৩, টেইলর ১১৯, ইলিয়ট ৩২, রনকি ৩৩, ফিন ১/৬৯, জরডান ১/৯৭,  স্টোকস ২/৬৬)
ইংল্যান্ড: ৩৬৫/৯ (রয় ৩৯, হেলস ৫৪, মরগ্যান ৮৮, বাটলার ৪১, প্লানকেট ৪৪, আদিল ৩৪, বোল্ট ২/৫৩, ম্যাকক্লেনাঘান ২/৬১, নাথান ৩/৮৬, স্যান্টনার ২/৭৩)
টস: নিউজিল্যান্ড (ব্যাটিং)
ফল: নিউজিল্যান্ড ১৩ রানে জয়ী (বৃষ্টি আইনে)
ম্যাচসেরা: রস টেইলর
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ১-১