(দিনাজপুর২৪.কম) মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যে কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপির রেকর্ড মূল্যপতন হয়েছে। আর তাতে হিসেব কষলে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বেড়েছে টাকার মান।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই রুপির নিম্নমুখী ধারা অব‌্যাহত থাকে। যাতে মুদ্রাটির রেকর্ড পতন হয়। সবশেষ ১০০ রুপির বিপরীতে টাকার মান দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে কোনো সময় এতো কমে রুপি পাওয়া যায়নি।

অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট্ররা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিকভাবে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সংক্রমণের হার নয় বরং ‘বিচ্ছিন্ন’ ও ‘অবরুদ্ধ’ করার নীতিই বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলার ও টাকার বিপরীতে রুপির মান অবমূল্যায়ন হয়েছে।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য এসে দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৮৫ রুপি। যেখানে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এটি এক পর্যায়ে প্রতি ডলার ৭৭ দশমিক ৩৩ রুপিতে নেমেছিল।

অন্যদিকে বুধবার (২৫ মার্চ) ১১০ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে। ১০০ রুপিতে মিলেছে ৯০ টাকা। আর ২৬ মার্চ প্রতি রুপির মান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে রুপিতে মান ১ টাকা ১৩ পয়সায় নেমেছিল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ  বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন মন্দা চলছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ভারতেও একই অবস্থা। ভারতে আমদানি- রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রভাব কমেছে। অন্যদিকে চাহিদা অনেক বেড়েছে। এতে তাদের আয় কমে গেছে। ফলে তাদের কারেন্সি ডিভ্যালুয়েশন (মুদ্রার অবমূল্যায়ন) করেছে। তাই রুপির দাম কমে গেছে।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে আমাদের খুব বেশি লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা কিছুটা লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে। কিন্তু করোনার কারণে ভ্রমণ বন্ধ তাই এ সুবিধাও কাছে লাগবে না।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা লাভবান হবেন। কারণ রুপি ক্রয় করতে আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে।

এ বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. এ. বি. মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের লেনদেন হয় মূলত ডলার হিসাবে। ভারতীয় মুদ্রার পতনে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ভারতে আমাদের গার্মেন্টস পণ্য খুব বেশি রপ্তানি হয় না। তবে আমদানিতে কিছুটা সুফল পাওয়ার সুযোগ থাকবে। -ডেস্ক