(দিনাজপুর২৪.কম)১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিও আবেদন করবেন। আজ শনিবার কারাগারে দেখা করেছেন তার ৫ আইনজীবী। আপিলেও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মক্কেলের সাথে সাক্ষাৎ শেষে আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের জানান, মুজাহিদের সঙ্গে তারা আইনি বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করার বিষয়ে পরামর্শ দেন মুজাহিদ। এডভোকেট শিশির বলেন, তিনি আমাদেরকে বলেছেন,তাকে সুনির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগে ফাঁসির দন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে- তা তার কাছে বোধগম্য হয়নি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আজ শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিট প্রবেশ করে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে আইনজীবীরা বেরিয়ে আসেন। মুজাহিদের সাথে যে পাঁচ আইনজীবী সাক্ষাৎ করেছেন তারা হলেন- শিশির মোহাম্মদ মনির, মশিউল আলম, কামাল উদ্দিন, নাজিবুর রহমান ও মতিউর রহমান আকন্দ। গত ১৬ জুন দেয়া রায়ে মুজাহিদকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিলেও মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ১৯৭১ সালের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আল বদর নেতা মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সংক্ষিপ্তাকারে দেয়া আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন মুজাহিদ। মুজাহিদ হলেন ৪র্থ ব্যক্তি, যার মামলায় আনা আপিলের রায় হলো। এই ১ম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোনো ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধের দায়ে চূড়ান্ত রায়েও সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন মুজাহিদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে ২০১৩ সালের ১১আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন মুজাহিদ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার হন মুজাহিদ। পরে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক রাখার আদেশ দেয়া হয়। সেই থেকে কারাগারে আছেন জামায়াতের এ নেতা।(ডেস্ক)