(দিনাজপুর২৪.কম) রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে মামলা হলেও ফিলিপিন্সের বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কৌঁসুলি আজমালুল হোসেন কিউসি। গতকাল এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, এজন্য আইনজীবী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি দল আগামী সপ্তাহে ফিলিপিন্স যাচ্ছে। তিনি নিজেও এই দলে আছেন।  তিনি বলেন, আমাদের আইনি লড়াই চলছে। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল কোর্টে মামলা শুরু করে দিয়েছি। আগামী ২রা এপ্রিল মামলার ডেট আছে। তার আগে যারা এই মামলার বিবাদী পক্ষ আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছি। সমঝোতার মাধ্যমে যাতে বিষয়টির সম্মানজনক সমাধান হয়, সেজন্যই আলোচনায় বসতে যাচ্ছি। আজমালুল বলেন, আমি ও বাংলাদেশের কয়েকজন আইনজীবী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্স যাচ্ছি। আগামী সপ্তাহে আমরা ফিলিপিন্স যাব। যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আলোচনায় বসে সমঝোতার মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনা। সমঝোতার উদ্যোগ কাদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে- এর জবাবে আজমালুল বলেন, উদ্যোগ বাংলাদেশ নিয়েছে। তাছাড়া যতটুকু জানতে পেরেছি অপর পক্ষের অনেকেই আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
আলোচনায় টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো আশা করছি, আমাদের সব টাকাই ফেরত পাওয়া উচিত। এখন সেটা আইনি লড়াইয়ে পাব, না কি মধ্যস্থতা-সমঝোতার করে পাব, সেটাই এখন বিষয়। ফিলিপিন্সে যাওয়ার আগে ১০ই মার্চ নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনার কৌশল ঠিক করবেন বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কৌঁসুলি।
১১ ও ১২ই মার্চ মামলার বিবাদী, ফিলিপিন্সের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিভাগীয় বিচারক, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি।
২০১৬ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।
এর পর গত ১লা ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপিন্সের এই বেসরকারি ব্যাংকটির কাছে এর আগেও অর্থ ফেরতের দাবি জানানো হয়েছিল, কিন্তু সাড়া মেলেনি। এখন মামলার তাদের উপর চাপ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির কাজে ‘অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের’ সহায়তা নেয় আসামিরা। ‘নেস্টেগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’ এর মতো ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য পথ বের করে। পরে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে টাকা সরিয়ে নেয়া হয় ফিলিপিন্সে আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে।
মামলায় রিজল ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজনখানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এ মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ল ফার্ম কোজেন ও’কনর। -ডেস্ক