(দিনাজপুর২৪.কম) রিভিউ রায়ের কপি (লিখিত আদেশ) কারাগারে যাওয়ার পর জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, ‘রিভিউয়ের রায় ঘোষণার পর রায়ের কপি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে। জেল কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশে রায় কার্যকরের দিন নির্ধারণ করবেন।’ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার পর এ রায় কার্যকরের দিনক্ষণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি। তবে এই সময়ের মধ্যে নিজামী চাইলে মার্সি পিটিশন বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারবেন বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘জেল কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি জানার পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না সে বিষয়ে নিজামীর সিদ্ধান্ত জানতে চাইবেন।’

রিভিউয়ের রায়ের লিখিত আদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আদালত চাইলে রিভিউয়ের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ (শর্ট অর্ডার) বা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি দিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে বেশ কিছু মামলায় শর্ট অর্ডারের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তখন শর্ট অর্ডার না পাওয়াই আজ এ মামলায় শর্ট অর্ডার চাইনি।’ তবে সংক্ষিপ্ত বা পূর্ণাঙ্গ যে আদেশই আদালত দিন, সেটি কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

মতিউর রহমান নিজামী সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নিজামী আলবদর বাহিনীর সংগঠক ও পরিচালক ছিলেন। দেশে আলবদর বাহিনী নির্মমভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছিল। এটা সর্বজনবিদিত। নিজামীর নির্দেশে ও প্ররোচনায় আলবদররা দেশের সুযোগ্য সন্তানদের হত্যা করে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এ রায়ে জাতি স্বস্তি পাচ্ছে। পুরো জাতি স্বস্তি বোধ করছে। পুরো জাতির মতো আমরা আনন্দিত।’

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনায় জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অন্য তিন বিচারপতি হলেন— বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এটি ছিল যুদ্ধাপরাধী নিজামীর শেষ আইনি সুযোগ। আবেদনটি খারিজ হওয়ায় তার সামনে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ রইল। -ডেস্ক