(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘ধর্মকে রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চাই না।  রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। ’

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও গৌতম বুদ্ধের জন্মোৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে খ্যাতিমান ধর্মতাত্ত্বিকরা আলোচনায় অংশ নেন।

বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ এটা প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘আজকে বৌদ্ধপূর্ণিমার অনুষ্ঠানে আমি চলে এসেছি। একজন মুসলিম ভাই চলে এসেছেন। আমাদের দুর্গাপূজায় ভিন্ন ধর্মের ভাইয়েরা চলে আসছে। আবার ঈদের সময়ে আমরাও চলে যাচ্ছি। এতে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ।’

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার রক্ত, একজন মুসলিম ভাইয়ের রক্ত, একজন খ্রিস্টান ভাইয়ের রক্তের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমার ভাইয়ের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল না-ও থাকতে পারে। কিন্তু একজন ভিন্নধর্মের ভাইয়ের রক্তের সঙ্গে আমার রক্তের গ্রুপ মিলে যেতে পারে।’

প্রতিটি ধর্মই শান্তির কথা বলে, তার পরও কেন এত সংঘাত- এ প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বার্থে ধর্মের অপব্যাখ্যা করছি। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের বিশ্বাসীকে আমি আহ্বান জানাব, আপনারা এক হোন। আপনাদের ধর্মে যা বলা হয়েছে তা প্রচার করুন, সবাইকে বোঝান।’

পৃথিবীর একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি তাদের মতো করে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি যেভাবে ধর্মকে পালন করতে দেখেছি। এগুলোকে কুসংকারাচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। আসলে প্রতিটি ধর্মে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করার কথা বলা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বৌদ্ধমূর্তি উপহার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিক্রমপুর জেলার জাদুঘরের জন্য অতীশ দীপঙ্করের দেহাবশেষ প্রদান করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা নূহ উল আলম লেনিনের কাছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্যামা নাট্যাংশ পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণ এবং পুকুরপাড়ে ফানুস ওড়ানো হয়। -ডেস্ক