(দিনাজপুর২৪.কম) সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুর্ক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ এ আদেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বৃহত্তর বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ বছর আগে দায়ের করা এ রিটে বছর পাঁচেক আগে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীদের বেশিরভাগ এরই মধ্যে মারা গেছেন। ১৯৮৮ সালের ৫ই জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত করা হয়। যাতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’। এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’র পক্ষে রিটটি (নম্বর ১৪৩৪/১৯৮৮) দায়ের করেন বরেণ্য ১৫ জন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সাবেক বিচারপতি কে এম সোবহান, অধ্যাপক খান সরওয়ার মুর্শিদ, আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত, বদরুদ্দীন উমর, সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এ রিট দায়েরের দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। ওইদিনই বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। এ রুল জারির কিছুদিন পর একই বছরের ২৫ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয়। এতে ২ অনুচ্ছেদ আবারও সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে’। এ সংশোধনীর পর আবারো সম্পূরক আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পর ২০১১ সালের ১লা ডিসেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ সম্পূরক রুল জারি করেন।
এদিকে রাষ্ট্র ধর্ম বহাল রাখার দাবিতে আজ দেশব্যাপী হরতাল পালন করছে জামায়াত।-ডেস্ক