(দিনাজপুর২৪.কম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। পরে বৈঠক চলা অবস্থায় বাইরে এসে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। বিএনপি মনে করে, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সকলের অংশগ্রহণে ‌’অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নষ্ট করার জন্য এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার জন্য দ্রুত রায় ঘোষণা, সেই অপচেষ্টার অংশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক ‍উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সরকারের আইন-আদালতের নিয়মনীতির বিরুদ্ধ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আহ্বান জানাচ্ছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ২৫ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য হঠাৎ সমাপ্ত করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, এমন ঘটনা শুধু অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত নয়, রহস্যজনক।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও মামলার রায় কী হবে, তা সরকার ও সরকারি দলের জানা আছে বলেই মনে হয়। তিনি বলেন, স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন ও বিরোধী পক্ষকে দমন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার আরেকটি নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লালমনিরহাট শহরের সদর হাসপাতাল রোডে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ মন্তব্য করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আদালতের দেওয়া সাজা মাথায় নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাবেন; আদালতে বিচারাধীন মামলার গতিপ্রকৃতি দেখে সেটাই মনে হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে এইচ এম এরশাদের এই মন্তব্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের জজ ড. আখতারুজ্জামান এই দিন নির্ধারণ করেন।

এই মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ রকম একটি পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া আজ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। -ডেস্ক