khaleda-dinajpur24
খালেদা জিয়া ফাইল ফটো

(দিনাজপুর২৪.কম) রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দাবিতে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বিকালে
গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সুন্দরবনকে ধ্বংসকারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনজীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত, জনজীবন বিপর্যস্ত এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে সেই সিদ্ধান্ত হবে দেশ ও গণবিরোধী। রামপালে কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ঠিক তেমনি একটি দেশ ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনিবার্য বিপদ নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় জেনে শুনে এই দেশ ও দেশের কোটি কোটি অধিবাসীকে নিশ্চিত বিপদের দিকে ঠেলে দেয়ার যে কোনো অপচেষ্টার প্রতিবাদ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের স্থানেরও অনেক বিকল্প আছে- কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই সুন্দরবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার হঠকারী, অযৌক্তিক ও অলাভজনক রামপালের সকল কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। আমি এই দাবির পক্ষে সোচ্চার হওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার উদাহরণ দিয়ে সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়ের মাত্রা, সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি ও ক্ষতির ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প কিছু পরামর্শও দিয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ও ১০ কিলোমিটার দূরে ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। দেশ-বিদেশের পরিবেশবিদ, সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ ও বিশ্বের নানা স্থানে এ ধরনের প্রকল্পের মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টান্ত উপেক্ষা করে অনির্বাচিত সরকার এ প্রকল্পের জন্য জমি ভরাটে অর্থ বরাদ্দও করেছে। জনমত উপেক্ষা করে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণের উপর জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পের অনিবার্য অশুভ ও মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়ার সব প্রমাণ উপস্থাপনের পরেও সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করছে। বরং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগী হয়ে প্রমাণ করেছে এ সরকার স্বৈরাচারী এবং তারা জনমত ও দেশের স্বার্থের পরোয়া করে না। তিনি বলেন, এ প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক বেষ্টনী ধ্বংস, জীব-বৈচিত্র্যের বিলোপ, লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের কারণ হবে। পরিবেশ ও পানি দূষিত, আশপাশের কৃষি জমির উর্বরা শক্তি এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করবে। ইতিমধ্যে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ, রামসার কনভেনশনের সচিবালয়- এমন কি বাংলাদেশের বন অধিদপ্তরের আপত্তি অগ্রাহ্য করে সরকার এই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে সুন্দরবন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে- ইউনেস্কো ঘোষিত সেই আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য সুন্দরবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের শিকার করার চক্রান্ত সফল হতে দেয়া যায় না। সর্বোপরি অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের যুক্তিহীন জেদ ও দ্রুততা শুধু সন্দেহজনকই নয়, দেশবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের অস্তিত্ব ও স্বার্থের বিনিময়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফা ও অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টা রোধ করা তাই সময়ের দাবি।
ভারতের উদাহরণ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এটিপিসি) নামের যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যৌথভাবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে- সেই একই প্রতিষ্ঠান ভারতের মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকার তা বাতিল করে দিয়েছে। নরসিংহপুরে যে প্রকল্পের জন্য ১০০০ একর জমির প্রস্তাব দিয়েছিল সেটার জন্য রামপালে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮৩৪ একর জমি। নরসিংহপুরের প্রকল্প বাতিলের কারণ ছিল- জনবসতিপূর্ণ এলাকা, কৃষিজমির ব্যবহার ও নর্মদা নদী থেকে পানি উত্তোলন ইস্যু। অথচ রামপালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় রামপালের আয়তন কম কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব দ্বিগুণ। নরসিংহপুরের জমি দো-ফসলি কিন্তু রামপালের জমি তিন ফসলি। ঘেরগুলোতে মাছ চাষ হয় সারা বছর। নর্মদা নদী থেকে ঘণ্টায় ৩২ কিউসেক পানি নিতে দেয়া যাবে না বলে মধ্যপ্রদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমতি দেয়া হয়নি। অথচ নর্মদার চেয়েও ছোট পশুর নদী থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিউসেক পানি নেয়া হবে। তা লবণাক্ততামুক্ত করার জন্য আলাদা প্লান্ট বসানো হবে। যদি গভীর নলকূপ বসিয়ে মিষ্টি পানি তুলতে হয় তা হলে ২ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৭২টি গভীর নলকূপ বসাতে হবে। যা হলে এক বিস্তৃত এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি শুকিয়ে এক মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, ভারতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আইনি বাধা আছে। ভারত সরকার জনগণের প্রতিরোধের মুখে ২০০৮ সালে কর্নাটকের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কিলোমিটার দূরে এবং তামিলনাড়ু রাজ্যে বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় ২০১২ সালে দুইটি প্রকল্পের প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ভারতেরই গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসই’র এক গবেষণায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত এনটিপিসিকে দেশটির সবচেয়ে দূষণকারী প্রতিষ্ঠান বলে চিহ্নিত করেছে। ভারতের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হয়েও সেদেশে প্রতিষ্ঠান যা করতে পারেনি শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে তা করছে বাংলাদেশে। আর জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন ও দেশের স্বার্থের প্রতি উদাসীন বাংলাদেশ সরকার তার অনুমতি দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন- সুন্দরবনের এত কাছে রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। যার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসাির। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষিত সুন্দরবন, বিরল প্রজাতির পশুপাখি, নদী ও খালের মৎস্যসম্পদ ও বনজ সম্পদ বিনষ্ট হবে। তিনি বিভিন্ন উদাহারণ তুলে ধরে বলেন, আমেরিকার টেক্সাসে ফায়েত্তি কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত সালফারডাই অক্সাইডের কারণে গাছপালা ধ্বংস হওয়ায় প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে দূষিত পানি নির্গমনের কারণে ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি অবলম্বন করা হলেও রামপালে তার অনুসরণ হচ্ছে না। কিন্তু এনটিপিসিই ভারতে ছত্তিশগড়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে চেয়ে ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি অনুসরণ না হলে রামপাল প্রকল্প থেকে প্রতি ঘণ্টায় নির্গত ৫১৫০ ঘনমিটার পানি পশুর নদীর জলজ পরিবেশের তাপমাত্রা, পানিতে দ্রবীভূত নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন ঘটিয়ে পুরো সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রভাব সৃষ্টি করবে। খালেদা জিয়া বলেন, ইআইএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এই প্রকল্পে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানো হবে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করলেও ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। যত উঁচু চিমনিই ব্যবহার করা হোক, বাতাসের চেয়ে ভারী এই মারাত্মক গ্যাস এ দেশেই এবং সুন্দরবনের ওপরেই ফিরে আসবে। এছাড়া প্রতিদিন নির্গত হবে ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড ও ৮৫ টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড। যা সুন্দরবনের বাতাসের ঘনত্ব বাড়িয়ে পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করবে। অথচ ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সুন্দরবনের মতো পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকায় বাতাসে এই দুটি রাসায়নিক পদার্থের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু ইআইএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৪ মাইক্রোগ্রাম হবে। সরকার সুন্দরবনকে আবাসিক ও গ্রাম এলাকা দেখিয়ে ও উঁচু চিমনি ব্যবহার কথা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে এই অগ্রহণযোগ্য মাত্রাকে বৈধতা দিচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে ক্ষতিকর বর্জ্য হবে দুই ধরনের কয়লা পোড়া ছাই। প্রতি বছর ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানোর ফলে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাস ও ২ লাখ টন বটম অ্যাস বর্জ্য তৈরি হবে। এই ফ্লাই অ্যাস, বটম অ্যাস এবং তরল ঘনীভূত ছাই বিপজ্জনক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে। এতে বিভিন্ন ক্ষতিকর ও তেজস্ক্রিয় ভারী ধাতু মেশানো এ ছাই আশপাশের এলাকায় তেজস্ক্রিয় দূষণ ও নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করবে। প্রকল্পের কঠিন বর্জ্যের একটি অংশ দিয়ে ১৪১৪ একর স্থানীয় নিচু জমি ভরাটের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা পরিবেশের জন্য আরও মারাত্মক হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট হয়ে রামপাল পর্যন্ত প্রতি বছর বিপুল পরিমান কয়লা পরিবহন করা হবে। এ কয়লার গুঁড়া, ভাঙা বা টুকরা কয়লা, তেল, ময়লা-আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ নিঃসৃত বর্জ্য নদীর জল ও সুন্দরবনের মাটি দূষিত করবে। এছাড়া কয়লা পরিবহনকারী জাহাজের ঢেউ পশুর নদীর দুই তীরের ভূমি ক্ষয়, যন্ত্রপাতি শব্দদূষণ এবং রাতের বেলায় জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণীসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পশুপাখির জীবনচক্রে মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে। ফলে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের পশু-পাখীর সংখ্যা অনিবার্যভাবেই কমে যাবে।
খালেদা জিয়া বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানকারী ভারতের এক্সিম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৪৯টি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ স্বাক্ষরে একটি চিঠি দিয়ে এই প্রকল্পে ঋণ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই ধরনের আহ্বানের কারণে ফ্রান্সের ৩টি ব্যাংক ও নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২টি ‘পেনশন ফান্ড’ ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরেকটি অগ্রহণযোগ্য দিক হচ্ছে-এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য অলাভজনক। এই প্রকল্পের বাংলাদেশ পিডিবি ও ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি ১৫ করে ৩০ ভাগ অর্থায়ন করবে আর বাকি ৭০ ভাগ ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে। কোম্পানি বন্ধ বা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুরো ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। পিডিবি উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে- আর নিট লাভে এনটিপিসি অর্ধেক ভাগ বসাবে। কিন্তু শতভাগ পরিবেশ ধ্বংস হবে শুধুই বাংলাদেশের। ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ৫০ ভাগ মুনাফা ট্যাক্স ফ্রি সুবিধার আওতায় তাদের দেশে নিয়ে যাবে।
বিএনপি চেয়ারপার বলেন, ইতিমধ্যেই সরকারি পর্যায়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য টন প্রতি ১৪৫ ডলার মূল্যে কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় পিডিবিকে ৮.৮৫ টাকা মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। অথচ মাগুরায় প্রতিষ্ঠিতব্য দেশীয় অরিয়ন গ্রুপের ক্ষেত্রে পিডিবির চুক্তি হয়েছে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা। খুলনার লবণচরা ও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রতিষ্ঠিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কেনা হবে ৩ টাকা ৮০ পয়সায়। দ্বিগুনেরও বেশি মূল্যে রামপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে পিডিবিকে ভর্তুকি দিয়ে জনগণের কাছে বিক্রি করতে হবে। পরিবেশ বিবেচনায় না নিলেও জেনে-শুনে এমন একটি লোকসানি প্রকল্পে সরকার কী উদ্দেশে এবং কার স্বার্থে জড়ালো- এটাই জনগণের প্রশ্ন। এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব নেই বলেই সরকার এই প্রকল্পের বিরোধিতাকারীদের পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করছে।
খালেদা জিয়া বলেন, দ্রুত শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জনগণের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সময়ের দাবি। এই দািব পূরণে উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নেয়া সরকারের কর্তব্য। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেয়ার সুযোগ ও অধিকার নেই কোনো সরকারের। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানির সন্ধান করা উচিত। ছোট গ্যাস জেনারেটর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি বিদ্যুৎ, টাইডাল বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস প্রকল্প, সোলার এনার্জি ইত্যাদি বিষয়ের দিকে আমাদের মনোযোগী হওয়া দরকার। বিএনপি চেয়ারপারস দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এমনিতেই উজানে আন্তর্জাতিক নদীর পানি প্রত্যাহার এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের মতো আমাদের বড় বড় নদীগুলোতে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এসব নদী ও তার শাখা নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক মরুকরণ শুরু হয়েছে। এখন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া বিষাক্ত ও প্রাকৃতিক বর্ম সুন্দরবন ধ্বংস হলে- আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আর বাসযোগ্য থাকবে না। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকই এটা মানতে পারে না- মানবে না। এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আজকে প্রশ্ন করার সময় নয়। কারণ বিষয়টি আওয়ামী লীগ, বিএনপির একার নয়, এটা সকলের। তাই বিষয়টি ভালভাবে তুলে ধরার অনুরোধ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে- ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শফিউল আলম প্রধান, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, মোস্তফা জামাল হায়দার, রেদোয়ান আহমেদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক