(দিনাজপুর ২৪.কম) বাগেরহাটের রামপালে আরও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। দ্বিতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূমি উন্নয়নসহ প্রাথমিক কাজ করতে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রামপালে বর্তমানে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে এ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কারণে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে দ্বিতীয় ব্লকে সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষমতার আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান খন্দকার মোকছেদুল হাসান দিনাজপুর ২৪.কমকে বলেন, রামপালে নতুন প্রকল্প স্থাপন সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে পিডিবির সদস্য পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রামপালে আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আগেই করেছে সরকার। এ জন্য জমি অধিগ্রহণ করে রাখা হয়েছিল। এখন এই জমির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমি উন্নয়নের পরই দ্বিতীয় বল্গকের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কারণ পুরো রামপাল এলাকাকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও একাধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়। মূলত কয়লা পরিবহনের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটিতে সরকার ৪৮৪ কোটি টাকা দেবে। অবশিষ্ট ৮ কোটি টাকা পিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ জমি উন্নয়ন বা মাটি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল ও আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯১৮ একর জায়গা সংরক্ষণে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়নের পর এখানে দ্বিতীয় বিদুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, এক হাজার ৪০০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং এক লাখ গাছের চারা লাগানো হবে। বিআইডবি্লউটিএর ঘাসিয়াখালি চ্যানেল ড্রেজিং হতে উত্তোলিত বালি পরিবহন করে প্রকল্প এলাকা ভরাট করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য এসএম গোলাম ফারুক জানান, ২০১৫ সালের মধ্যে ১১ হাজার ৪৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভূমি উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সুপারিশ
করেছে কমিশন।
বাগেরহাটের রামপালে বর্তমানে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি লিমিটেড বেসরকারিভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
যৌথ মালিকানার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে খরচ হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। চলমান প্রকল্পের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। ভারত এবং বাংলাদেশ প্রকল্পটিতে ৩০ ভাগ অর্থ বিনিয়োগ করবে। বাকি ৭০ ভাগ অর্থ ঋণ নেওয়া হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা হবে।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের ৩০ আগস্ট দুই দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডিবি ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনপিটিসি) এ কেন্দ্র স্থাপনে চুক্তি করে।(ডেস্ক)