(দিনাজপুর২৪.কম) অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের করা মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মা মর্জিনা বেগমের ছয় বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তার মালিকানাধীন অবৈধভাবে অর্জিত সাভারের একটি বাড়ির এক তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯মার্চ) ঢাকার ৬ নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এই রায় ঘোষণা করেন। আদেশে মর্জিনা বেগমকে পৃথক দুইটি ধারায় তিন বছর করে ছয় বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী এম এ সালাউদ্দীন ইসকান্দার বলেন, ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯০ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মাকে এই কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর মর্জিনাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল বাদী হয়ে মর্জিনার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আদালত গত বছরের ২৮ আগস্ট মর্জিনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন। দুদকের পক্ষ থেকে আটজন সাক্ষী আদালতে হাজির করা হয়।

নির্মাণ ত্রুটির কারণে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজায় ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই বছরের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এরপরে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রানার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা নামক ভবন ধসে ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। ধ্বংসস্তুপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত হয়। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অসনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। -ডেস্ক