(দিনাজপুর২৪.কম) রাত পোহালেই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল আজহা।  শুরু হয়েছে ক্ষণগণণা।  নিজের ভিতরে বসবাসকারী পশুটাকে কোরবানী দিতে সারা দেশের মুসলমানেরা উদগ্রীব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশের প্রতিটি মুসলমান শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে ইতোমধ্যেই রাজধানী  মানুষের একটি বড় কাফেলা গ্রামে চলে গেছে। যদিও তা শিকড়ের টানে নয় বরং নিজের আত্মমর্যদার প্রতিফলন দেখাতে।  আজ বৃহস্পতিবারও যাচ্ছেন অনেকে। মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আজহা একাধিক কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো হালাল পশু কোরবানি করা এবং সামর্থ্যবানদের জন্য পবিত্র হজব্রত পালন করা। হজব্রত পালন করতে সবাই সক্ষম না হলেও মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভে ধন্য হতে পশু কোরবানির মাধ্যমে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায় উদযাপন করবে অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। ঘরে ঘরে বয়ে যাবে আনন্দের ফল্গুধারা। শুক্রবার ভোর থেকেই মুসলমানদের উৎসবের আমেজ শুরু হবে। সকালে গোসল করে পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়ে হাতে তসবিহ ও জায়নামাজ নিয়ে মুসল্লিরা যাবেন ঈদগাহে। এরপর বাড়ি ফিরেই পশু কোরবানি করবেন।

প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির প্রচলন শুরু। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ লাভের জন্য পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। তাই কোরবানি করাই এই দিনের উত্তম ইবাদত বলে ধর্মীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।মহান আল্লাহ পাকের প্রতি আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে সেই থেকে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুস্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর গোশতের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এ আদর্শ অনুসরণের জন্য গোটা মুসলিম জাহানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

পবিত্র ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জাতীয় এবং ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ঈদুল আযহার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাজধানীতে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে।তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা এহসানুল হক, তৃতীয় জামাতে কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিন আযহারী, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী ইমামতি করবেন।

সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এদিকে প্রতিবারের মত এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান। – ডেস্ক