মোঃ সেতাউর রহমান, রাণীশংকৈল (দিনাজপুর২৪.কম) জেলার আদর্শ উপজেলা রাণীশংকৈলের উপশহর নেকমরদ বাজারে পীরশাহ সৈয়দ নাসিরউদ্দিন মাজার অবস্থিত। উপজেলা শহর থেকে ৯ কিঃমিঃ উত্তরে নেকমরদ নামে পরিচিতি লাভ করলেও এলাকার মুল নাম ছিল ভবানন্দপুর, তবে এর পুর্ববর্তী নাম ছিল করবর্তন বলে তথ্য পাওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সন্নিকটে বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মযাজক সৈয়দ নাসিরউদ্দিনের মাজার রয়েছে।  দিনাজপুর-ঠাকুরগাওয়ের পীর আউলিয়াদের মধ্যে  হযরত পীর সৈয়দ নাসিরউদ্দিন অন্যতম পুণ্যবান ব্যক্তি। তিনি অত্যন্ত পরহেজগার থাকায় নেকমর্দান নামে পরিচিত ছিলেন যার অর্থ পূণ্যবান মহাপুরুষ। তিনি নিজস্ব চারিত্রিক গুণাবলি ও অহিংসনীতির মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতেন। যার ফলে তার নাম অনুসারে ভবানন্দপুর জনপদ নেকমরদ নামে প্রতিষ্ঠা পায়। তার সম্পর্কে জনশ্রুতি ছাড়া সঠিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি আজো। সুলতানি আমলে তার আগমন ঘটে বলে অনুমান করা হয়। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দে ষ্ট্রং সাহেব রচিত দিনাজপুরের গেজেটিয়ারে প্রথম পীরশাহ নেকমরদ এর নাম ও মাজারের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনার নামানুষারে আছে নানা ধরনের চমকপ্রদ কিংবদন্তি। নেকমরদ এলাকাটি প্রতœ উপকরণে সমৃদ্ধ। পীরশাহ নেকমরদের মাজার প্রতœ উপকরণের মাঝে প্রতিষ্ঠিত বলে কিংবদন্তির কাহিনী আরো জোরালো। যেমন হিন্দু রাজত্বের শেষ যুগে ভিমরাজ ও পিতরাজ নামে দুই ভাই এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তাদের শাসনামলে প্রজা সাধারণ ছিল নির্যাতিত। অনাচার, দুর্ণীতি আর অরাজগতায় মানুষ ছিল কোণঠাসা। অতিষ্ট মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারতো না দুঃশাসক ভিমরাজ ও পিতরাজের বিরুদ্ধে। এমন দুঃসময়ে শেখ নাসিরউদ্দিন নেকমরদের এ রাজ্যে প্রবেশ করেণ। ভিমরাজ ও পিতরাজ কৌশলে তাকে বাধা দিলে তিনি অলৌকিক ক্ষমতাবলে সে বাধা ছিন্ন করেণ। বিরক্ত হয়ে অত্যাচারি দুই ভাইকে অভিশাপ দিলে তারা ধংস হয়ে যায়। তাদের রাজধানীর ধ্বংসাবশের উপর নির্মিত হয় পীরশাহ নেকমরদের আস্তানা। বিধ্বস্ত রাজধানীর উপর শুরু হয় নতুন জনপদের যাত্রা। আবার এও জানা যায়, পীরশাহ ইসলাম প্রচারকালে এলাকার ক্ষমতাধর হিন্দুরা তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে এবং ইসলাম প্রচারে বাধা দিত। এমনকি পীরশাহ কে পুকুরের গভীর পানিতে নিক্ষেপ করা হলেও অলৌকিকভাবে সেখানে বালূচর সৃষ্টি হয় এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেণ। পরবর্তীতে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এ মাজারকে কেন্দ্র করে বির্র্ভিন্ন মাদ্রাসা মসজিদ গড়ে উঠে। এমনও শোনা যায় পীরশাহ নাসিরউদ্দিন পানির উপর দিয়ে খড়ম পায়ে হাঁটতেন। তিনি পহেলা বৈশাখে ইন্তেকাল করেণ তবে কবে আগমণ ও পরলোকগমণ করেণ তার কোন প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পুণ্য স্মৃতিকে অমøান করে রাখতে এ তারিখ থেকে দুই দিনব্যাপী পবিত্র ওরস উদযাপন ও ইতিহাস প্রসিদ্ধ বার্ষিক নেকমরদ ওরস মেলা প্রবর্তন হয়। এই বিখ্যাত নেকমরদ ওরস মেলায় এখন হাতি ঘোড়া চোখে দেখা গেলেও এক সময় এখানে হাতি, ঘোড়া, উট সহ প্রায় সব ধরনের জিনিস পত্র কেনা বেচা হতো। এখনও প্রতি বছর ডিসেম্বরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ মেলা এক মাস স্থায়ী থাকে। পীরশাহ নাসিরউদ্দিনের মাজারটি প্রায় ৮৫ বছর আগে নির্মিত হয়। এটি আগে কাঁচা থাকলেও বর্তমানে কারুকার্যে শোভা মন্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে নেকমরদ ইউনিয়ন ও ওরশ মেলা অত্র এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, মাজারটি আমাদের এলাকার আশির্বাদ হিসেবে আছে। মাজার ও মসজিদ’র উন্নয়নে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, উপজেলার নেকমরদ বাজারে একজন পূণ্যবান পীরশাহ নাসিরউদ্দিনের মাজার আছে। এটি এলাকাবাসির সৌভাগ্যের ব্যাপার। পবিত্রতা বজায় রেখে মাজার ও মসজিদের উন্নয়নে আমার সহযোগিতা থাকবে।