(দিনাজপুর২৪.কম)  গতকাল ৮ ডিসেম্বর, শনিবার রাজশাহীর শিশু একাডেমী প্রাঙ্গনে ইউনিসেফ এর সহায়তায় এবং রাজশাহী বেতার এর উদ্যোগে কিশোর- কিশোরীদের সম্ভাবনাময় বিকাশের লক্ষ্যে কিশোর- কিশোরী-নাগরিকদের অংশগ্রহনে “কৈশোরের জয়গান” শীর্ষক বিভাগীয় প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নূর-উর-রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান নাজিবুল্লাহ হামীম। রাজশাহী বেতার এর আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোঃ হাসান আখতার এর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ এর কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কিশোর- কিশোরী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এই উপলক্ষে কিশোর- কিশোরী-নাগরিকদের অংশগ্রহনে উন্নতমানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ এবং ক্ষমতায়নের দাবিতে বিভিন্ন ফেস্টুন সম্বলিত “কৈশোরের জয়গান” নামের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে রাজশাহী শিশু একাডেমী প্রাঙ্গনে আয়োজিত প্রাণবন্ত সংলাপে উপস্থিত শিশু- কিশোর- কিশোরীদের সাথে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তার প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডাঃ ফারহানা হক, ইউনিসেফ এর শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মুরশিদা ফেরদৌস, রাজশাহী বেতার সহকারী পরিচালক আবুল বাশার এবং রাজশাহী জেলা নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শবনম শিরিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্বে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নূর-উর-রহমান বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবক সহ সমাজের সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্তারোপ করেন। তিনি উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনা করে নিজেদের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান। ইউনিসেফ প্রতিনিধি নাজিবুল্লাহ হামিম সমাজের বাল্য বিয়ের প্রবণতাকে কিশোর-কিশোরীদের বিকাশের পথে মারাত্মক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে জেলা প্রশাসন সহ সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শিশু- কিশোর-কিশোরী দের জীবন মান উন্নয়নে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সাথে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অংশগ্রহণকারীরা কিশোর- কিশোরীদের বিষণ্ণতা, আত্মহত্যা প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন। এই মানসিক প্রবণতা রুখতে কিশোর- কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও উন্নয়ন মূলক কাজ করার কথা বলেন উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কিশোর কিশোরীরা ইভ টিজিং ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবক সহ সমাজের সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্তারোপ করেন। সেইসাথে রাজশাহী বিভাগের প্রত্যেক প্রান্তে সচেতনতা মূলক প্রচারণা জোরদার করার আহবান জানান। সংলাপে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা, আত্মহত্যার প্রবণতা, মোবাইল ফোন- ইন্টারনেট ব্যবহার, মিডিয়ার ভূমিকা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিশোর- কিশোরীদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং উপস্থিত কিশোর- কিশোরীদের পড়াশোনা করে নিজেদের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান। সংলাপের শুরুতেই অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের কিশোরী শিক্ষার্থী নাফিজা কবির কিশোর কিশোরীদের জীবন মান উন্নয়নে গড়ে তোলার জন্য উপস্থিত কিশোর কিশোরদের নিয়ে শপথ নেয় নিজেদের উন্নত জীবনে গড়ে তুলতে। কিশোর কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাদের জন্য উন্নত জীবন গড়ে তুলতে বিভাগের প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় উন্নয়নে কিশোর কিশোরীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বিভিন্ন বক্তা। সংলাপ শেষে রাজশাহী বেতারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। -প্রেসরিলিজ