(দিনাজপুর২৪.কম) রেহাই পেলেন না সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর পুলিশ কমিশনার ক্ষমতাবলে থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করেছিলেন। আর পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া ওসি আলমগীরকে রংপুর জোনের পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল সেটি কার্যকর করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান। পুলিশ জানিয়েছে, সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন খুনের ঘটনায় ওসি আলমগীর সহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হলেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এবং এই প্রক্রিয়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। এদিকে, বরখাস্ত হওয়া ওসি আলমগীর হোসেন আজ মঙ্গলবার সিলেট ছাড়ছেন বলে গতকাল তিনি মানবজমিনের কাছে জানিয়েছেন। ৮ই জুলাই সিলেট নগরীর টুকেরবাজারের শেখপাড়া গ্রামে বাইয়ারপাড়ের আজিজুর রহমানের শিশুপুত্র রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করে ঘাতকরা। দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনায় পুলিশের গাফলতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেন নিহত রাজনের শোকাহত পিতা আজিজুর রহমান। এ নিয়ে সিলেটের স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকনউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। এই কমিটি গত ৩ দিন আগে সিলেট পুলিশের কমিশনারের কাছে রিপোর্ট জমা দেন। আর এই রিপোর্টে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, সেকেন্ড অফিসার এসআই জাকির হোসেন ও রাজন হত্যার মামলা দায়েরকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গাফলতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ কারণে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পরদিনই পুলিশ কমিশনার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে এসআই জাকির হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান তদন্ত রিপোর্টের আলোকে ওসি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পত্র পাঠান। তার পত্রের প্রেক্ষিতে রোববার পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ওসি আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর রাতেই বরখাস্তের আদেশটি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছে। আর গতকাল সকালে সেটি নথিভুক্ত করে আদেশ কার্যকর করেছেন পুলিশ কমিশনার। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. রহমতুল্লাহ বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আদেশটি রাতে এলে সেটি কার্যকর করা হয় গতকাল সোমবার সকালে। এবং ওসি আলমগীর হোসেনকে রংপুর জোনে সংযুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, বরখাস্ত হওয়ার আদেশটি গতকাল দুপুরেই হাতে পেয়েছেন ওসি আলমগীর হোসেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালনকালে কোন অবহেলা করেননি। মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কাজ তিনি যথাযথভাবে পালন করেছেন বলে দাবি করেন। ওসি জানান, তিনি আজ মঙ্গলবারই রংপুরে চলে যাবেন। রংপুরে চলে গেলেও এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।
বিভাগীয় মামলা রুজু এক সপ্তাহের মধ্যে: সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন খুনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে। এরপর একটি তদন্ত দল রাজন খুনের ঘটনার পর ওই তিন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করবে। ওই তিন কর্মকর্তা বিভাগীয় তদন্ত কমিটিতে দোষী সাব্যস্ত হলে তারা স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হতে পারেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে। আর এটি সম্পূর্ণ দেখভাল করবে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের কর্মকর্তারা।
গা বাঁচানোর চেষ্টা এসি কামরুলের: রাজন খুনের সময় কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালনে ছিলেন সিলেটের জালালাবাদ থানার এসি এএইচএম কামরুল ইসলাম। রাজনের পিতা অভিযোগ করেছেন, এসি কামরুল ইসলাম থানা অভ্যন্তরে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কিন্তু সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকনউদ্দিনের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি হয়েছিলো সেটিতে এসি কামরুলের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসেনি। এই ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের কর্মকর্তারা রাজন খুনের ঘটনার দিনই জালালাবাদ থানায় গিয়েছিলেন। তারা শুরু থেকে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া, ঘটনার পরদিন ৯ই এপ্রিল সেখানে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কামরুল আহসান নিজে। তিনিও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে, ঘটনার মূল হোতা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ওসি (তদন্ত) আলমগীর উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পত্র ইমিগ্রেশনে যথাসময়ে না পৌঁছার কারণেই ১০ই জুলাই  সৌদি পালিয়ে যায় সে।  রিমান্ড শেষে রুহেল কারাগারে: রাজন খুনের ঘটনায় ঈদের দিন স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় যুবক রুহেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এর পরদিন পুলিশ আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে রুহেলকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রোববার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। রুহেলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।-(ডেস্ক)