(দিনাজপুর২৪.কম) সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। আজ বুধবার দুপুরে সিলেটের সদর উপজেলার বাদেআলী গ্রামে রাজনের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিকে এ ঘটনায আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া তার আগে গ্রেপ্তার চৌকিদার ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আজ রাজনের বাড়িতে যান মেহের আফরোজ চুমকি। সেখানে তিনি বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এ সময় নিহত রাজনের পরিবারকে ১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন তিনি। এছাড়াও প্রতিমাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনের ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ হিসেবে ২ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। পরে বাদেআলী গ্রামে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। অন্যদিকে রাজন হত্যার আসামিদের গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
জানা যায়, রাজন হত্যার অন্যতম প্রধান আসামী ময়না চৌকিদারকে তার মায়ের সহায়তায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে এ ময়নাই রাজনকে যৌন নির্যাতন করে। সে ঘটনা ধামাচাপা দিতে চুরির নাটক সাজায়। জঘন্য এ ঘটনায় ময়নার মা-ই ছেলের ফাঁসি চান। পক্ষান্তরে ময়না আটক হওয়ায় আনন্দ বইছে সিলেট জুড়ে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ৭ জনকে।
ময়নাকে আটকের পর জনতার এমন বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ মিছিল করে টুকেরবাজার এলাকাবাসী। এ জনতাই ঘাতক ময়নাকে আটক করে তুলে দিয়েছে পুলিশের হাতে। আটকের পর এলাকাবাসী ময়নার ফাঁসি দাবি করে বলেন সে-ই রাজনকে যৌন নির্যাতন করে চুরির নাটক সাজিয়ে হত্যা করে।
ময়নাকে আটকে এলাকাবাসীকে সর্বাত্মক সহায়তা করেন তার মা ছমিরুন্নেছা। জঘন্য এ ঘটনার জন্য তিনিও সন্তানের ফাঁসি চান। জনতা ধরিয়ে দিলেও পুলিশের দাবি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটক করা হয়েছে ময়নাকে। আর বাকি আসামিদেরও যতো দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেন পুলিশের কর্মকর্তারা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, প্রথম থেকেই আমরা ময়নার পেছনে লেগে ছিলাম। আমরা আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা থেকে শুরু করে, আমাদের প্রথাগত ও প্রযুক্তিগত টুলস আমরা ব্যবহার করেছি।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, কামরুল এবং মুহিতের আরেক ভাই আলী যার সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এ দুইজনকে অতিদ্রুত গ্রেফতার করতে পারব বলে বিশ্বাস করি। তাদের লোকেশন কিছুটা আমরা ট্রেস করতে পেরেছি। আমরা সেই পথেই এগুচ্ছি। আটককৃতদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত রিমান্ডে দুজন এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে আরো দুজন আসামি শিশু রাজনকে হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
অপরদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকনউদ্দিন জানিয়েছেন, ডিবির পরিদর্শক সুরঞ্জিত তরফদার এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন।
ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার দুপুরে কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দুলাল মিয়া নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুলাল শেখপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। নির্যাতনের সময় দুলালও রাজনকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের ভিডিওতেও তাকে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত গত ৮ জুলাই সকালে চোর সন্দেহে ১৩ বছর বয়সী রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবদের ঝড় ওঠে।(ডেস্ক)