(দিনাজপুর২৪.কম) শীতের রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীর কালশীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকার বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর লাগা এই আগুনে পুড়ে গেছে বস্তির দুই শতাধিক ঘর।সব হারিয়ে বস্তির ছয় শতাধিক বাসিন্দার আশ্রয় এখন খোলা আকাশের নিচে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পেয়ে পাঁচটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে আরও পাঠানো হয় ছয়টি ইউনিট। রাত সোয়া ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে যাওয়া বস্তিটির দুই শতাধিক ঘর।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কান্নার রোল পড়ে বস্তিবাসীর মধ্যে।সব হারায়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির রাতেই এখন খোলা আকাশে নিচে থাকতে হচ্ছে।

বস্তিবাসী জানান, বস্তিটিতে ৮০টির মতো দোকানসহ তিন শতাধিক ঘর রয়েছে। নিচে খাল। খালের ওপর অধিকাংশই কাঠের টং ঘর ও টিনের ঘর বানানো। ছোট ছোট প্রতিটি ঘরে বসবাস ছিল দুজনের বেশি বাসিন্দা। বাসিন্দাদের অধিকাংশই রিকশা-ভ্যানচালক। কেউবা ভাঙারির ব্যবসা করেন, ফেরি করে প্লাস্টিক সামগ্রী ও পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করেন। আগুনে দোকানসহ ঘর পুড়েছে দুই শতাধিক।

রাত সোয়া ২টার দিকে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা আগুনের কারণ জানতে পারিনি। এটা বস্তি জেনেই এসেছি। এখানে ভাঙারি দোকান কিংবা প্লাস্টিকজাতীয় কিছু রয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর আমরা পাইনি। আগুন পুরোপরি নির্বাপণের পর তল্লাশি চালানো হবে। আগুনের কারণ তালাশে করা হবে তদন্ত কমিটি। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার তদন্ত করে বলা যাবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৬ আসন) আলহাজ মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ বলেন, বস্তিটিতে লাগা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে স্থানীয় আরমান স্কুলে। গরম কাপড়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। -ডেস্ক