(দিনাজপুর২৪.কম) তবে হ্যাঁ, রাগের মাথায় আমি উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বকাঝকা করেছি । মারধর করিনি। আমি মনে করি জনগণের জন্য কাজ আদায় করে নিতে সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মাঝে মাঝে একটু রাগারাগি হয় এসব পরে ঠিক হয়ে যায়। একথাগুলো বলেছেন কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের দরকারদলী সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।  বৃহস্পতিবার এমপি আবদুর রহমান বদি সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেন, কাউকে মারধর করা জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। তবে কারও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটা জণপ্রতিনিধির কাজের মধ্যে পড়ে। কোন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা যদি স্বচ্ছতার সাথে কাজ না করেন তাকে সেখান থেকে বদলী করে অন্যত্র পাঠানোর সুপারিশ করতে পারি সংসদ সদস্য হিসেবে। কিন্তু কারও শরীরে হাত তোলার মতো কাজ আমি কেনো করবো। সমন্বয় সভায় না আসায় উপজেলা প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি বদি বলেন, এমন কথা কিছু পরিচিত সাংবাদিক ও পরিচিত গণমাধ্যম বলছে। কই এমন কথা’তো প্রকৌশলী বলছেন না। প্রকৌশলীকে আমি মারধর করেছি কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত বুধবার উখিয়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির হাতে মারধরের শিকার হওয়ার কথা অবশেষে অস্বীকার করেছেন উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তফা মোহাম্মদ মিনহাজ। স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মিনহাজ দাবি করেন, বুধবার উখিয়া উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা শুরুর কথা ছিলো সকাল এগারোটায়। ঐ সময় তার দপ্তরে কিছু কাজ বাকি থাকায় তিনি যথা সময়ে সভায় উপস্থিত হতে  পারেননি। সভায় তার উপস্থিতি না দেখে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল দাশ নিজেই তার কক্ষে এসে হাজির হন। এসময় এমপি বদি তাকে সভায় অনুপস্থিতির কারন জানতে চেয়ে বকাঝকা দেন। প্রকৌশলী ফাইলের স্বাক্ষরের কাজ করছেন বলে জানালে এমপি বদি, ইউএনও ও তিনি সভাকক্ষে চলে যান। তিনি আরো দাবী করেন, সভা শেষে তিনি সংসদ সদস্যের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন এবং বন্য কবলিত সড়ক উপ-সড়ক ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদও দেন তাকে। প্রকৌশলী মিনহাজ আরো দাবী করেন, এমপি বদির সাথে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পরিদর্শনকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্রীজ, কালবার্ট ও বাড়ি-ঘর মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদানও দিয়েছেন । তিনি দাবি করেন সংসদ সদস্য বদি যখন তার রুমে আসেন ওই সময় তিনি, ইউএনও এবং এমপি সহ তারা ৩ জন ছাড়া আর কেউ সেখানে ছিলেন না। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংসদ সদস্য বদি কর্তৃক তাকে মারধরের কথা প্রচার করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, এমপি বদির নির্দেশনায় ভালোভাবেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এছাড়াও উখিয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে এমপির নির্দেশ যথাযত মানা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি দাবী করেন, যেখানে মারধরের কোন ঘটনা বা পরিস্থিতি হয়নি সেখানে মারধরের ঘটনা ভিন্নভাবে প্রচার করা দুঃখজনক। কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জেনে সংবাদ প্রচারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি তিনি অনুরোধ করেন। এদিকে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, বুধবার আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে এমপির সাথে প্রকৌশলীর একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। -ডেস্ক