(দিনাজপুর২৪.কম) কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকালীন সময়ে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন মাঠে বাণিজ্য মেলা না করার দাবিতে ২৮ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১ টায় সচেতন অভিভাবক ও নাগরিকদের পক্ষ থেকে রংপুরের পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার এর অনুপস্থিতিতে পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডিআইওয়ান শরিফুল ইসলাম। শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক ও রাজনীতিবিদ পলাশ কান্তি নাগের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন চাঁদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বনমালী পাল, রাষ্ট্র চিন্তার সদস্য অধ্যাপক চিনু কবীর, প্রজন্ম একাত্তর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবদাস ঘোষ দেবু, সিপিবি’র নগর সাধারন সম্পাদক রাতুলুজ্জামান রাতুল,গণসংহতি আন্দোলনের নেতা এস.এম শিশির, বাসদ (মাহাবুব) এর নেতা নুর আলম, রংপুর পদাতিকের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন সুমন, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব সুভাষ রায়, শ্রমিক নেতা রেদওয়ান ফেরদৌস,সবুজ রায়,আব্দুল জব্বার, নিপীড়ণ বিরোধী নারীমঞ্চের সদস্য পারভীন আক্তার,শিক্ষানবীশ আইনজীবী স্বপন রায়,সাংবাদিক সাইফুল্ল্যা খাঁন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- নারী পুলিশ কল্যান সমিতির সহযোগীতায় মন্তা ডেকোরেটর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর আয়োজনে আগামী ১০ নভেম্বর’১৯ ইং হতে পুলিশ লাইন্স স্কুল সংলগ্ন মাঠে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে লক্ষ্যে আয়োজক কর্তৃপক্ষ মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশে বেষ্টনী তৈরী করে ষ্টল নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করেছে। মেলা চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য। আবাহমান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিপূরক মেলা অনুষ্ঠান অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য। নাগরিক জীবনের কর্ম ব্যস্ততার মাঝে চিত্ত বিনোদনের মত এ ধরণের আয়োজনের নিশ্চয়ই গুরুত্ব রয়েছে। যদিও কতিপয় মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই কর্পোরেট সংস্কৃতির আদলে মেলা আয়োজনে করে। যা আমাদের সুষ্ঠু ধারার সংস্কৃতি ও বিনোদনের পথে মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
যাইহোক যে সময়ে এই মেলা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সে সময়টি মোটেও বিবেচনা প্রসূত হয়নি। কারণ শুধু ভেন্যু হিসেবে পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে না, আশপাশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ এর আশপাশে নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর জিলা স্কুল, ভকেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কৈলাশরন্জন উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু নিকেতন, রংপুর সরকারী কলেজ উল্লেখযোগ্য। আগামী ২ নভেম্বর হতে জেএসসি, ১৭ নভেম্বর হতে পিএসসি পরীক্ষা একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়সমুহের সমাপনী পরীক্ষা ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ক্লাস ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবেই পরীক্ষার প্রস্তুতির বিঘœ ঘটবে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘœ করে এ ধরণের আয়োজন কোন সচেতন নাগরিক কিংবা অভিভাবক। মেনে নিতে পারে না। এ সময়ে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে দেখা উচিত ছিল। কারণ এই মেলাটি শুধু নির্দিষ্ট গন্ডীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, নগর জুড়েই এর প্রভাব পড়বে। মেলার আকর্ষণে লেখাপড়া ছেড়ে অনেক কিশোর-কিশোরীরা এই মেলা প্রাঙ্গণে ভীড় করবে। ফলে এই সময়টি কোনভাবেই অনুকুল নয়। তাছাড়া বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ ব্যবহার করে এ ধরণের মেলা আয়োজন না করার বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি হুমকির মধ্যে রেখে এই সময়ে মেলা আয়োজনে আমরা উদ্বিগ্ন ও শংকিত। উল্লেখিত পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে গঠনমূলক আয়োজনে মেলা হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
স্মারকলিপিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার স্বার্থে বর্তমান সময়ে মেলা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ে পুলিশ সুপারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়।
অন্যথায় পরীক্ষাকালীন সময়ে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে নেতৃবৃন্দ জানান।
এছাড়াও স্মারকলিপির অনুলিপি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।-ডেস্ক