(দিনাজপুর২৪.কম) স্মরণকালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রংপুরের তারাগঞ্জে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। আহত হয়েছেন ৫৬ জন। তারাগঞ্জের ইকরচালী নামক স্থানে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছুটে আসেন দুর্ঘটনাস্থলে। এছাড়া রংপুর-সৈয়দপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ৫০টি এম্বুলেন্স এসে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় চালক-হেলপারসহ নিহত হয়েছে ১৩ জন হয়। নিহতরা হলেন, মো. আলী কালা (৩০), আব্দুল মতিন (৩২), চন্দন রায় (৩৫), শিক্ষিকা জিন্নাত আরা (৩৮), আকুল মিয়া (২৫), লিটন হোসেন (২৬), তৈয়ব মিয়া (৪২), মমদেল (৪০), সুবোধ চন্দ্র (৩৫), অজ্ঞাত ৪ জন।
কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা ঠাকুরগাঁওগামী যাত্রীবাহী বাস সাইমন এক্সক্লুসিভ পরিবহন গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ইকরচালী এলাকায় আসলে চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বিপরীত দিক দিনাজপুর থেকে আসা রংপুরগামী যাত্রীবাহী বাস তৃপ্তি পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। বিকট শব্দে গাড়ি দুটি দুমড়েমুচড়ে একটি বাসের ভেতরে অপর বাস ঢুকে যায়। ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। এ সময় আহতদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নিহত ও আহতদের উদ্ধারকাজ শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী, রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার আবদুুর রাজ্জাক, তারাগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা জিলুফা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় বাসটি পড়ে থাকায় এবং হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঢাকা, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত যানবাহন আটক পড়ে। ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় যানজটে আটকাপড়া যাত্রীদের। সড়ক দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চলে। আহতদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ ও রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ বরাদ্দ সরবরাহ নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি রক্তের প্রয়োজনে সন্ধানীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রক্তদাতাদের রক্ত দেয়ার জন্য আহ্বান জানান। অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন বলেন, একটি রোগীও যাতে বিনা চিকিৎসায় মারা না যান সেজন্য চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালজুড়ে আত্মীয়স্বজনদের আহাজারি। প্রলাপ বকছেন আহত বাবু মিয়ার মা সুফিয়া বেওয়া। তিনি বলেন, ‘হামার ওপর এ্যানকা ক্যান হইল। হামরায় তো কারো ক্ষতি করি নাই। এ্যালায় হামাক কায় দেখবে। ক্যানকা খরচ চলবে।’ অপর আহত সগির মিয়া বলেন, তিনি বীরগঞ্জে যাওয়ার জন্য সাইমন এক্সক্লুসিভে আসছিলেন। হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে কী থেকে কী হয়ে গেলো আর কিছু বলতে পারছেন না। শুধু এতটুকু বলেন, ‘আল্লায় মোক বাঁচাইছে।’ এদিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারকে রংপুরের জেলা প্রশাসক ৫ হাজার টাকা ও তারাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৪ হাজারসহ জনপ্রতি ৯ হাজার টাকা এবং আহতদের ৪৮টি পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ হাজার ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার টাকাসহ জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়। রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, নিহত ও আহতদের আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে। নিহতদের তাদের নিজ বাসায় সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দেয়া যায় সে ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আহতরা যাতে করে সুচিকিৎসা পায় চিকিৎসকদের বিশেষভাবে বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেন আহতরা তাদের বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।-ডেস্ক