(দিনাজপুর২৪.কম) জিন-ভূত তাড়ানোর নামে তরুণীদের সঙ্গে পর্নো ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ‘ভণ্ডপীর’ আহসান হাবিব পিয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার দুদিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএম ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকীকে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড দায়িত্ব দেন। বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে পিয়ারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ২ আগস্ট আহসান হাবিব পিয়ারকে আদালতে হাজির করে খিলগাঁও থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম এ কে এম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী তার বিরুদ্ধে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা নথি সূত্রে জানা যায়, আহসান হাবিব পিয়ার দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা করেছেন। নিজেকে এএইচপি টিভির সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন এবং নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ধর্মের কথা বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সম্প্রতি সে নিজেকে পীর দাবি করে জিন তাড়ানোর কথা বলে মেয়েদের নির্যাতন করত বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় মেয়েদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌন উত্তেজক কথা বলে এবং পরে এদের অনেককে নিজ বাসায় এনে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত।

এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, পীর দাবি করা ভণ্ডপীর মেয়েদের সঙ্গে যৌনকর্ম করার সময় ভিডিও করে তা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করত। পরে সুযোগ মতো ভিডিওর কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা আদায় করত। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে এক আগস্ট রাতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে। -ডেস্ক