(দিনাজপুর২৪.কম) যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় চুয়াডাঙ্গায় আরিফা খাতুন মিতা (২৩) নামে এক গৃহবধূর শরীর আগুন দিয়ে ঝলসে দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামে এই নিমর্ম ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিজিবি সদস্য স্বামীর উপস্থিতিতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আরিফার উপর এই নিমর্মতা চালিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামের আইনাল হকের ছেলে বিজিবি সদস্য খালিদ হাসান সুমনের সঙ্গে ২ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার চিৎলা গ্রামের কিতাব আলীর মেয়ে আরিফা খাতুন মিতার।
মিতার পরিবারের অভিযোগ বিয়ের সময় নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়। মিতার বাবা কিতাব আলী জানান, গত ২/৩ মাস ধরে দুই লাখ টাকার জন্য পুনরায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার মেয়ের উপর নির্যাতন শুরু করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মিতার শ্বাশুড়ি লামিয়া খাতুন, শ্বশুর আইনাল ও ননদ সীমা আমার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তারা মিতার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় মিতার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে আশঙ্কজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন জানান, আগুনে ওই গৃহবধূর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালের বান ইউনিটে পাঠানো হয়েছে ।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। -ডেস্ক