(দিনাজপুর২৪.কম) এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক না থাকায় করোনাভাইরাস ঠেকাতে নানান গুজব রটেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সেই গুজবে কান দিয়েছেন বাংলাদেশেরও কিছু মানুষ। কেউ নিজের সারা গায়ে অ্যালকোহল মেখে, কেউ এটা-ওটা খেয়ে, কেউ বা আবার ঝাড়-ফুঁক দিয়ে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন। এর বাইরে আছে আরও কত কি কাণ্ড!

ইদানিং আবার নতুন এক ধারণার জন্ম হয়েছে। তা হলো, মানুষের শরীরে জীবাণুনাশক ছিটানো (স্প্রে) হলে ভাইরাসটি মারা যায়। যদিও বেশ কিছুদিন আগেই সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

সংক্রমণের ভয় হলেই কি সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইডের মতো ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট মানে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যায়? করলেও তা কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায়? এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলেছে নানা মহলে।

ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মানব দেহে ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট ব্যবহার করা রীতিমতো বিপজ্জনক। অনেক সময়ে এই ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট বা জীবাণুনাশক অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবদেহে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই, বাইরে ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট ব্যবহার করতে গেলে হাতে গ্লাভস পরা-সহ বিভিন্ন সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহার করতে গেলে প্রয়োজনীয় সতকর্তা কী কী নিতে হবে?-এই ধরনের রাসায়নিক জিনিস শুধুমাত্র খোলা দেওয়াল বা মেঝেতে ব্যবহার করতে বলা হয়। কোনও অবস্থাতেই মানুষের দেহে ব্যবহার করা যাবে না। তাতে ওই ব্যক্তি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার গায়ে ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট দেওয়া যাবে না। এমনকি, শরীরের ভিতরের অংশেও ওই ডিস-ইনফেক্ট্যান্ট দেওয়া যাবে না। ডিস-ইনফেক্ট্যান্টের মধ্যে যে ক্লোরিন থাকে তা এক ব্যক্তির চোখ এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ক্ষতি হতে পারে পেটেরও।

শুধু তাই নয়, ক্লোরিন নাকে মুখে ঢুকে গেলে নাকের ভেতরের চামড়া, শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। -ডেস্ক