সাংবাদিকদের মুখোমুখি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ফাইল ছবি

আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এই কংগ্রেসের আগেই হঠাৎ করে যুবলীগের সভাপতি হিসেবে শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের নীতি নির্ধারকদের প্রথম পছন্দ শেখ ফজলে নূর তাপস। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, নীতি নির্ধারক মহলে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদি তাপস রাজি হয় তাহলে যুবলীগের সংকট সমাধান সহজ হয়ে যায়।

সেই লক্ষ্যে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকে আজ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে শেখ ফজলে নূর তাপসকে নির্বাচিত করা হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পূর্ব নির্ধারিত এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে ফজলে নূর তাপসসহ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশীদ, শেখ শামসুল আবেদীন, শহিদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মোঃ ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মোঃ আতাউর রহমান, এডভোকেট বেলাল হোসাইন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুইয়া মাখন, এডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, শেখ আতিয়ার রহমান দিপু। যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, মনজুর আলম শাহীন, নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, মুহাঃ বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আসাদুল হক, এমরান হোসেন খান, আজহার উদ্দিন প্রমুখ।

সংগঠনের প্রেসিডিয়াম, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠকে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপু উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বৈঠকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে বৈঠকে অংশ নিতে শেখ ফজলুর রহমান মারুফ গণভবনে গেলেও তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শেখ ফজলে নূর তাপস ইতিপূর্বে তার ঘনিষ্ঠদের কাছে বলেছিলেন, যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। তবে দলের প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যদি তাকে চান তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তাপসের এমন মন্তব্যের পরেই আওয়ামী লীগের অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, যুবলীগে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, সেটা দূর করার জন্য যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলেই উপযুক্ত ব্যক্তি। তার হাতে যদি যুবলীগের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় তাহলে সেটা হবে সব দিক থেকে উত্তম।

এর আগে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছিলেন, ফজলে নূর তাপস যদি যুবলীগের চেয়ারম্যান হন, তবে যুবলীগ তার আদর্শ অনুসারেই চলবে। কারণ প্রথমত, তিনি শেখ মনির সন্তান। দ্বিতীয়ত, তাপসের ক্লিন ইমেজ যুবলীগের বদনাম ঘোচানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তৃতীয় কারণ হলো, তাপসের জনপ্রিয়তায় যুবলীগ সাংগঠনিকভাবে আবার পুনর্গঠিত হতে পারবে।

অবশ্য আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতা বলেছেন, এখনো কাউন্সিলের অনেক বাকি। কাজেই এই সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। -ডেস্ক