(দিনাজপুর২৪.কম) যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক লাখ অভিবাসীকে বের করে দেয়ার এক কঠিন পথে অগ্রসর হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তার প্রশাসন নতুন করে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট পলিসির খসড়া পুনরায় লিপিবদ্ধ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে মঙ্গলবার স্বাক্ষর করেছেন সেক্রেটারি জন কেলি। এ নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষকে বের করে দেয়া হতে পারে। ওদিকে এর আগেই খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, আগামী সপ্তাহে অভিবাসন বিষয়ক সংশোধিত নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন ট্রাম্প। এ জন্য মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অভিবাসন বিষয়ক আগ্রাসী নীতি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এমন এক মেমোতে স্বাক্ষর করেছেন সেক্রেটারি জন কেলি। সিএনএন সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে জোরালোভাবে। এতে বলা হচ্ছে, নতুন নীতির অগ্রাধিকারে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসী, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত বা শাস্তিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, অপরাধী কর্মকা-ের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। যাদেরকে বিভিন্ন শপিং মলের লিফট থেকে আটক করা হয়েছে, ছোটখাট অপরাধ করেছে অথবা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে তারা আসতে পারে এর আওতায়। এর আগে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় ২৭শে জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম প্রধান সাতটি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন ৯০ দিনের জন্য। একই সঙ্গে ১২০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয় তাতে। কিন্তু আদালতের বিচারে তিনি হেরে যান। ফলে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেবেন। এ জন্য তিনি ওই নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন। তাতে হেরে যাওয়ার পর নতুন করে এই পরিকল্পনা করছেন তিনি। তবে এবার অভিবাসী ইস্যুতে অতি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করার মাধ্যমে নিয়মের লঙ্ঘন করেছিলেন তাদের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন মানুষের মধ্যে রয়েছে দুটি ক্যাটেগরি। এক. অনুমতি না নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমকারীরা। দুই. ভিসার মেয়ার উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন তারা। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম একটি ফৌজদারি অপরাধ। নতুন খসড়ায় এটা পরিষ্কার করা হয়েছে যে, যারা এমনটা করেছেন তাদের বিষয়টি নতুন নীতির অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। এমন ব্যক্তিরা নতুন নীতির অগ্রাধিকারে নেই। তবে মেমো অনুযায়ী আগের চেয়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বেশি দেখা দিয়েছে। সেক্রেটারি জন কেলি স্বাক্ষরিত পরিকল্পনায় দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেসব মানুষ মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার জন্য আটক হবে তারা যেদেশেরই হোক না কেন, তাদেরকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হবে। তাদেরকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর পর সেখানেই তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র তার প্রত্যর্পণ সম্পন্ন না করবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নীতির বিরোধিতা করতে পারেন সুশীল সমাজ ও মেক্সিকোর কর্মকর্তারা। এটা পরিষ্কার নয় যে, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকদের গ্রহণে মেক্সিকোকে বাধ্য করার কর্তৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের আছে কিনা। তবে ওই মেমোতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মেক্সিকোকে অর্থ সহায়তা দিতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। মেক্সিকো যাতে বিদেশীদের গ্রহণ করে সে জন্য সম্ভবত এই অর্থ তহবিল, যা মেক্সিকোকে দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০২ সাল থেকে দ্রুততার সঙ্গে সীমান্তের ১০০ মাইলের মধ্যে আটক হওয়া কোনো অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো শুরু হয়, যদি সীমান্ত অতিক্রমের দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই ব্যক্তি ধরা পড়ে। এখন নতুন প্রশাসন জেলে অভিবাসী ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে একই সময়ে ৩৪ হাজার অভিবাসীর ধারণ ক্ষমতা ও অর্থ আছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে। তবে নতুন করে খরচ কত বাড়বে সে বিষয়েও কোনো ধারণা নেই। ওদিকে এরই মধ্যে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বলেছে, তারা এ নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাড়ে সাত লাখেরও বেশি তরুণ বা যুবক অভিবাসীকে দেশ থেকে বের করে দেয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি একটি কর্মসূটি হাতে নিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে ওবামার সেই নীতি আক্রান্ত হবে না। ওবামার সময়ে হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালা সহ বিভিন্ন দেশের এক লাখেরও বেশি শিশু সীমান্তে ধরা পড়ে। তাদের পিতামাতা বসবাস করেন যুযক্তরাষ্ট্রে। ফলে ওই সব শিশুকে তাদের পিতামাতার সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। -ডেস্ক রিপোর্ট