(দিনাজপুর২৪.কম) এ যাবত যতটুকু জানা গেছে তার বাইরেও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে থাকতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। এ আশঙ্কায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কংগ্রেস। তদন্তের বিষয়ে জানানো হয়েছে রিপাবলিকান, ডেমোক্রেট ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। এক্সক্লুসিভ হিসেবে এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল হিলের গোয়েন্দাদের কাছে এ বিষয়ে আরও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেফ সেশনসের শিডিউল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে সন্দেহ কংগ্রেসের। এ যোগাযোগের বিষয়ে এর আগে রিপোর্ট হয় নি। ফলে ২০১৬ সালের ২৭ শে এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে মে-ফ্লাওয়ার হোটেলে জেফ সেশনস ও সের্গেই কিসলায়েকের মধ্যে ওই বৈঠক হয়েছিল কিনা সেদিকেই নজর এখন গোয়েন্দাদের। উল্লেখ্য, ওই হোটেল থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তখনকার প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বড় ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ঘোষণা বা ভাষন দেয়ার আগে তখনকার সিনেটর জেফ সেশনস ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েক আয়োজক, কূটনীতিক ও অন্যদের সঙ্গে একটি ছোটখাট ভিআইপি রিসেপশনে যোগ দিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কি কথা হয়েছিল সেশনস ও কিসলায়েকের মধ্যে সেদিকেই চোখ এখন গোয়েন্দাদের। এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেষ্টা করছে এফবিআই। ওই একই দিনে ওই একই হোটেলে পরে এ দু’জনের মধ্যে আর কোন ব্যক্তিগত বা গোপন বৈঠক হয়েছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা করছে এফবিআই। তবে ক্যাপিটল হিল বা এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা কেউই নিশ্চিত হতে পারেন নি এ বিষয়ে। সিএনএন’কে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সারাহ ইসগুর ফ্লোরেস বলেছেন, বিষয়টি দেখার জন্য স্পেশাল কাউন্সেল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবো না। তিনি আরো বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, অজ্ঞাত উৎসগুলো মিডিয়ার কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে অব্যাহতভাবে তাদের উদ্দেশ্য সাধরনের চেষ্টা করছে। এমন উৎসের কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। ওই সময়কার সিনেটর ( জেফ সেশনস ) ও রাশিয়ার কোন কর্মকর্তার সঙ্গে মে-ফ্লাওয়ার হোটেলে কোন গোপন বৈঠক হয় নি। উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন বৈঠকের কথা গোপন করেছিলেন সেশনস। তিনি এ অভিযোগে ১০ ই জানুয়ারি শুনানিতে অংশ নেন। সেখানে নিশ্চিত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাশিয়ানদের সঙ্গে তার কোনোই যোগাযোগ হয় নি। এ ছাড়া সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে লিখিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে রাশিয়ান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় নি। কিন্তু মার্চে এসে তিনি নিজের এ বক্তব্যের কারণে সমস্যায় পড়ে যান। তখন দেখা যায় তিনি রাশিয়ার কূটনীতিক সের্গেই কিসলায়েকের সঙ্গে দু’দফা বৈঠক করেছেন। একবার এ বৈঠক হয়েছে জুলাইয়ে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে। দ্বিতীয়বার সেপ্টেম্বরে তার সিনেট অফিসে। পরে তিনি স্বীকার করেন বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সেটা হয়েছিল সিনেটর হিসেবে তার যে দায়িত্ব তার অংশ হিসেবে। এর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সম্পর্ক নেই। ২রা মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই দু’দফা বৈঠক বাদে সের্গেই কিসলায়েকের সঙ্গে তার আর কোনো বৈঠক হয়েছিল কিনা। জবাবে জেফ সেশনস বলেন, আমি তা মনে করি না। আপনারা জানেন আমাদেরকে অনেক মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত করতে হয়। আমি মনে করি না (রাশিয়ার কারো সঙ্গে আর বৈঠক হয়েছিল)। ওই সপ্তাহের শেষের দিকে তিনি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন। তাতে তিনি কিসলায়েকের সঙ্গে দু’দফা বৈঠকের কথা উল্লেখ করলেও মে-ফ্লাওয়ার হোটেলের প্রসঙ্গ বেমালুম এড়িয়ে যান। -ডেস্ক