(দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, একটি জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছিলেন তাকেই খুনিরা হত্যা করল।

তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা পারেনি। কিন্তু জাতির পিতার যাদের প্রতি বিশ্বাস ছিল ভালোবাসা ছিল তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করে বিশ্বাসঘাতকতা করল।

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ (ভার্চুয়াল) করে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন আয়োজন করা হয় এ সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ এবং লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই আদর্শ এবং লক্ষ্য ধ্বংস করাই ছিল খুনিদের লক্ষ্য। তারা কখনই চায়নি বাংলাদেশের উন্নয়ন হোক। এই চক্রান্তের সঙ্গে খন্দকার মোশতাক যেমন জড়িত তেমনি জিয়াউর রহমানও জড়িত ছিলেন। এই কারণে যে খন্দকার মোশতাক যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তখন জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী প্রধান করে।

তিনি বলেন, খালেদ মোশারফ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধে যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তাদের বেছে বেছে হত্যা করে জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীর মেধাবী অফিসারদেরও একে একে হত্যা করা হয়েছে। জিয়া কোনো দিনও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেয়নি। এ ছাড়া ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের কত নেতাকর্মীকে গুম করেছে তার শেষ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বারবার মৃত্যুর মুখে পড়েছেন; কিন্তু কখনো জাতির যে আকাঙ্ক্ষা, জাতির জন্য তিনি যে কিছু করতে চেয়েছেন, যে জীবন তিনি উৎসর্গ করেছেন, তাঁর আদর্শ সঙ্গে নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন, কখনো সে আদর্শ থেকে পিছু ফিরে তাকাননি, মৃত্যুকে পরোয়া করেননি।

তিনি বলেন, তাকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন তাকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করা হচ্ছিল। তারপর তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে সেখানে বিচার হয় এবং ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। যেহেতু বাঙালিরা জয়ী হয়েছিল, পাকিস্তানের ৯৫ হাজার সামরিক সদস্য বন্দি হয়েছিল, তাদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যও ছিল পাকিস্তানের।

এ সময় ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি। তিনি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছেন এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়, তারাও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন আল্লাহতায়ালা তাদের সবাইকে বেহেশত নসিব করেন।’

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে খুনিরা হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। সেই আদর্শের পথ ধরেই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে যেহেতু আমাদের অনেক রকম কর্মসূচি ছিল, করোনাভাইরাসের কারণে সব কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে করেছি। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের লক্ষ্য থাকবে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাতে খাদ্যে কষ্ট না পায়, চিকিৎসা সেবা পায় তাদের জীবনটা যাতে অর্থবহ হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোকাবহ যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করা হয়। সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এর পর বঙ্গবন্ধুর কর্মময় ও সংগ্রামী জীবনের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

এ ছাড়া আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।