(দিনাজপুর২৪.কম) যে ট্রেনের যাত্রী বেশি, সেটি ছাড়তেও দেরি তত বেশি। আবার দূরের গন্তব্যের ট্রেনের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় যাত্রীদের। অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি যাত্রী উঠা-নামা ও ক্রসিংয়ে বেশি সময় লাগার কারণে ঈদযাত্রায় বিলম্ব হচ্ছে ট্রেনের। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার পর গত দু’দিনের ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ঈদে সবচেয়ে বেশি যাত্রী থাকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের। অর্থাৎ যমুনা সেতু পার হয়ে যেতে হয় এমন ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় বেশি।

যমুনার ওপারের তিন বিভাগের (খুলনা, রাজশাহী, রংপুর) ২২ জেলার যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদে নিরাপদ বাহন হিসেবে ট্রেনকেই বেছে নেন। পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে একাধিক ক্রসিং ও স্টপেজ পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এছাড়া একাধিক স্টপেজে যাত্রী উঠানামার জন্য থামতে হয়। ফলে অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদে এই ট্রেনগুলো গন্তব্যে পোঁছাতে বেশি সময় নেয়। একইভাবে আবার ঢাকায় ফিরে আসতেও সময় বেশি লাগে। সব মিলিয়ে আসা যাওয়ায় সময় বেশি লাগায় ট্রেনের নির্ধারিত শিডিউলেও বিপর্যয় ঘটে। ঈদে যাত্রী বেশি থাকার কারণে প্রতিটি স্টপেজেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত আরো চার পাঁচ মিনিট বেশি বিলম্ব হচ্ছে। এভাবে সবকটি স্টপেজে যদি বিলম্ব হয় তাহলে মোট সময়ের ওপর প্রভাব পড়বে। এতেই শিডিউল বিপর্যরের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ঈদে সব রুটেই বিশেষ ট্রেন সংযোজন করায় (ক্রসিংয়ে) এগুলোর জন্যও বাড়তি সময় দিতে হয়।

রোববার দুপুর একটা পর্যন্ত দেখা গেছে, রেলের পশ্চিমাঞ্চলের চারটি ট্রেনেরই শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রোববার সকালে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে এক ঘন্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে। দিনাজপুরগামী ধূমকেতু ছেড়েছে আড়াই ঘন্টা দেরিতে। নীলফামারীগামী নীলসাগর ট্রেনটি ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪ ঘন্টা ৪০ মিনিট দেরিতে। একইভাবে চাপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী এক্সপ্রেসও রোববার ছেড়ে গেছে আড়াই ঘন্টা দেরিতে। অর্থাৎ দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটের ট্রেন ছেড়ে গেছে বিকেলে তিনটায়।

যাত্রী বেশি আর দূরত্বের কারণে ট্রেনের এই বিলম্বের কথা স্বীকার করেছেন কমলাপুরের ষ্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, যমুনা সেতুর ওপারের ট্রেনগুলোর শিডিউল বিপর্যয় বেশি হচ্ছে । একেতো ঐ অঞ্চলের যাত্রী বেশি, তারপরে আবার এই ট্রেনগুলোকে অনেক বেশি ক্রসিং অতিক্রম করতে হয়। তবে একথা সহজে বলা যায় যাত্রী বেশি আর দূরত্ব বেশি হলে সেই ট্রেনগুলোরই শিডিউল বিপর্যয় বেশি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, রোবরার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর থেকে মোট ৫২টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ২২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়া তিনটি বিশেষ ট্রেনও নতুনভাবে ঈদ উপলক্ষে সংযোজন করা হয়েছে।-ডেস্ক