(দিনাজপুর২৪.কম) যাত্রাপথে দুর্ঘটনা থামছেনই না। নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ শুরু হলেও এখনো বেপরোয়া চালকরা। এ কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। ঝরছে নারী, শিশুসহ হাজারো প্রাণ। নিমিষেই শেষ হচ্ছে অনেকের স্বপ্ন। বছরের প্রথম মাস শুধু জানুয়ারিতেই যাত্রা পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯৭ জন। পথচারীরা আইন না মেনে সড়ক পারাপারের কারণেও প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে সড়কে ৫৩১ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৪৭ জনের। আহত হয়েছেন এক হাজার ১৪১ জন। একই সময় রেলপথে ৪৩ দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭ দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৩০ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতের ১৬১ জনই ছিল পথচারী। এ ছাড়া ১৯১ জন ছিল চালক, ৯১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪৬ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুজন সাংবাদিক, পাঁচ জন চিকিৎসক, এক জন প্রকৌশলী, এক জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ১২ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। তা ছাড়া এদের মধ্যে ১৩৯ জন নারী ও ৫৫ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ১৪০ জন চালক, ১৩৭ জন পথচারী, ৮২ জন নারী, ৬৮ জন ছাত্রছাত্রী, ৪৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৩৭ জন শিশু, ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাত জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চার জন চিকিৎসক, সাত জন শিক্ষক, এক জন মুক্তিযোদ্ধা, এক জন প্রকৌশলী।

এসব দুর্ঘটনার ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাস, ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১২ দশমিক ২১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্র-ট্রাক্টর ও লেগুনার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব দুর্ঘটনার ৫৯ দশমিক ১৩ শতাংশ গাড়ি চাপা আর ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ আর ২ দশমিক ৫ শতাংশ নিহতের হার বাড়লেও, আহত ৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগুলোর ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে আর ২৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে। -প্রেসরিলিজ