(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই তমাল সর্দার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এ দিকে, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরায় পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুইজনের ব্যাপারে জানা গেছে। এই দুইজনই ভাড়াটে সেজে ওই বাড়িতে উঠেছিলেন। তারা ছাড়াও আর কেউ এই হত্যায় জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িতদের গ্রেফতার করা গেলে এ বিষয়ে জানা যাবে।
মাতুয়াইলের কাজীরগাঁওয়ের মৃধাবাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মজিবুর রহমান। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির সামনেই তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নারীঘটিত বিরোধের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই দুই সম্ভাবনা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগির জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পরিমল চন্দ্র দাস জানান, মজিবুরের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী রুবেলের সঙ্গে রবিবার ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে কথা বলেন দুই যুবক। সোমবার তারা অগ্রিম টাকা না দিয়েই বাড়িতে ওঠেন। এরপর গভীর রাতে তারা রুবেলকে হাত-পা বেঁধে ঘরে আটকে রাখে। পরে মঙ্গলবার ভোরে মজিবুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়িতে ফেরার সময় ফটকের সামনেই তাকে গুলি করা হয়। বাড়ির ফটকে লাগানো সিসি ক্যামেরায় হত্যার আংশিক দৃশ্য ধরা পড়ে। এতে ভাড়াটে দুইজনকে দেখা যায়।
তিনি আরো জানান, বিভিন্ন স্থানে ডিজে পার্টিতে যেতেন মজিবুর রহমান। এরকম একটি পার্টির সূত্র ধরে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরে সেই তরুণীর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে আরেক যুবকের। এ নিয়ে ঐ যুবকের সঙ্গে মজিবুরের বিরোধ তৈরি হয়। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও গুরত্ব পাচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী শাহিদা রহমান জানান, খোকন নামে জুরাইনের এক যুবকের সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় তার স্বামী যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করেছিলেন। এই খোকনের সঙ্গেই ডিজে পার্টির সেই তরুণীর সখ্য গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, স্থানীয় যুবলীগ নেতা হারুনের সঙ্গে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। (ডেস্ক)