(দিনাজপুর২৪.কম) ঈদ সামনে রেখে যশোরের সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে তৈরি পোশাকের চোরাচালান বেড়ে গেছে। চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পোশাক আসছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। গত ৩ মাসের ব্যবধানে যশোর বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার পোশাকের চালান আটক করেছে। অবৈধভাবে পোশাক আসার কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জানা গেছে, যশোরের ডিবি পুলিশ ১১ জুন যশোর-বেনাপোল সড়ক থেকে ট্রাক ভর্তি ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস এবং থান কাপড়সহ চালক সোহেল এবং হেলপার সোহাগকে আটক করে। উদ্ধারকৃত কাপড়ের মূল্য ছিল ৬০ লাখ টাকা।

 এর আগে ৪ জুন বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের আমদানি করা ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় পোশাক আটক করে। আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে থান কাপড়, থ্রিপিস, জুতা-স্যান্ডেল, বেবী ফুড এবং ইমিটেশন সামগ্রী। যশোর-বেনাপোল সড়কের আমড়াখালি ব্রিজের কাছ থেকে কাভার্ডভ্যান ভর্তি ওই পণ্য আটক করা হয়। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ইন্সপেক্টর (গোডাউন ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ) মাহমুদ হোসেন বলেছেন, অবৈধ ঘোষণা দিয়ে পণ্য পরিবহনের অভিযোগে বিজিবি সদস্যরা ৪ জুন ভারতীয় একটি পণ্যের চালান আটক করে কাস্টমস গোডাউনে জমা দিয়েছেন। এসব পণ্যের মধ্যে থ্রিপিস, থানা কাপড়, জুতা, স্যান্ডেল, বেবী ফুড ও লেস রয়েছে। এরকম গত ৩ মাসে অন্তত শত কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য আটক করেছে যশোর বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের একটি টিম ১৬ জুন রাতে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের কাপড় উদ্ধার করে। মনিরামপুরের মশিহাটি বাজারের কাছে একটি আমবাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই কাপড় উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯৩ পিস শাড়ি, ৬৫টি থ্রিপিস এবং ৫৯ বান্ডিল থান কাপড় জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। জব্দকৃত কাপড়ের মূল্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার গোগা, অগ্রভুলোট, পুটখালি, দৌলতপুর, বড়আঁচড়া, বেনাপোল, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, ধান্যখোলা, শিকারপুর, নারকেলবাড়িয়া, শালকোণা, শিববাস, টেংরালি, কাশিপুর এবং চৌগাছার কাবিলপুর, শাহাজদপুর, মাশিলা, বর্ণি, হিজলি, বল্লবপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পোশাক আসছে। অভিযোগ রয়েছে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আবার কাস্টমের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ মালের সঙ্গে অবৈধ পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছে।

যশোর তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের সভাপতি নেসার আহমেদ মুন্না জানান, অবৈধভাবে পোশাক আসার কারণে আমাদের ব্যবসায় দারুণ প্রভাব পড়ছে। সেইসঙ্গে দেশীয় পোশাকের ব্যবসা মার খাচ্ছে। কেননা ভারতীয় পোশাক চোরাচালান হয়ে এলে তার দাম অনেক কম রাখা হয়। এতে প্রতিযোগিতায় দেশীয় পোশাক বা যারা আমদানি করছেন তারা লোকসানের শিকার হন।

যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমরা প্রতিদিন চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালাই। ঈদ সামনে রেখে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার সিরাজুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে শুধু পোশাক নয়, যে কোনো পণ্য এলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমদানির ওপর। (ডেস্ক)