(দিনাজপুর২৪.কম) যশোরের বাঘারপাড়ায় মেসার্স আব্দুল বারী ফিলিংস্টেশনের ম্যানেজারসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রাতের কোনো এক সময় যশোর নড়াইল সড়কের বাঘারপাড়া মোড়ে অবস্থিত আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় ওই দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বশক্রতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহতরা হচ্ছেন, বাঘারপাড়ার দশপাখিয়া গ্রামের রহমান মোল্যার ছেলে ওবায়দুর রহমান (৩২) ও রঘুনাথপুর গ্রামের সদর উদ্দীন খাঁর ছেলে লিজন আহাম্মেদ অপু (২৩)। নিহত ওবায়দুর ফিলিংস্টেশনের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন। আর অপু যশোর এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র এবং সে ওই ফিলিংস্টেশনে খণ্ডকালীন স্টাফ হিসেবে হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করতেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত দুজন ছাড়াও ফিলিং স্টেশনে সিরাজুল ইসলাম নামে আরও এক কর্মচারী ঘুমাতেন। কিন্তু সকাল থেকে তাকে খুঁঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও বাঘারপাড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজার ওবায়দুর ও নজেলম্যান সিরাজুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারে ঘুমাতেন। কিছুদিন ধরে নিয়মিত রাত্রীযাপন করতেন অপু। অপুর বাড়ি ফিলিংস্টেশনের  পেছনেই। বাড়ির নির্মাণকাজ চলায় অপু সেখানে রাতে ঘুমাতে আসতেন। গতকাল সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ডিজেল নিতে এসে ক্যাশ কাউন্টারে নিহত দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর  অন্যদের খবর দেন। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে ক্যাশ কাউন্টারের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদেরকে কুপিয়ে হত্যার পর কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে দুর্বৃত্তরা। অপুর স্বজনরা জানান, সরষে বিক্রির ৫০ হাজার টাকা ছিল অপুর কাছে। জানা গেছে, ফিলিংস্টেশনের মালিক হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দিয়েছেন যশোর সদরের ভায়না গ্রামের মাসুদ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে। মাসুদের নিজেরও একটি ফিলিংস্টেশন রয়েছে। মাসুদ জানিয়েছেন, রোববার রাত ৯টার দিকে সে ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ শেষে টাকা পয়সা নিয়ে তিনি বাড়ি চলে যান।  মাসুদের অবস্থানকালে নজেলম্যান সিরাজুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিল। সিরাজুল নিয়মিত ক্যাশ কাউন্টারে ঘুমান বলে মাসুদ জানিয়েছেন। কাউন্টারের ক্যাশবাক্স বা অন্য কোনো মালামালে দুর্বৃত্তরা হাত দেয়নি। গতকাল সকাল থেকেই সিরাজুল ইসলামকে পাওয়া যাচ্ছে না। সিরাজুল যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মোহম্মদ আলির ছেলে। পুলিশ বলছে, সিরাজুল ইসলামকে পাওয়া গেলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। বাঘারপাড়া থানার ওসি ছইরুদ্দীন আহম্মদ জানিয়েছেন, মনে হচ্ছে চুরি ডাকাতির ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। পূর্বশক্রতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দু-একদিন পার না হলে বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে না। এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। খুনিরা একাধিক ব্যক্তি ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হত্যাকাণ্ডের পর লাশ দুটি কাঁথা দিয়ে মুড়ে ফেলে গেছে। তারা ক্যাশ কাউন্টার বা অন্য কোনো জিনিসে হাত দেয়নি। ঘটনার পর থেকে পাম্পের নজেল ম্যান সিরাজুল ইসলামকেও পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে খুনিদের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল বা সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাকে পাওয়া গেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। খবর পাওয়ার পর পরই তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুরো ঘটনাটি তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে বিষয়টি পরিষ্কার এটি স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের কাজ।-ডেস্ক