(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) জীবিত অবস্থায় তাঁর নামের সঙ্গে সমার্থক ছিল বিতর্ক। মৃত্যুর পরও সেই বিতর্কের ছায়া কাটিয়ে উঠতে পারলেন না দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ফুটবল রাজপুত্রের প্রয়াণে এখনও শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। এরই মধ্যে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ এবং ওয়ারিশ নিয়ে শুরু হয়েছে বিবাদ। বিতর্ক আরও আছে। গোটা বিশ্ব যখন কিংবদন্তি ফুটবলারকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, সেখানে স্পেনের এক অখ্যাত মহিলা ফুটবলার তাঁর জন্য এক মিনিটের নীরবতা পর্যন্ত পালনে রাজি হলেন না। গোটা দল যখন শ্রদ্ধার সঙ্গে নীরবতা পালন করল, তখন তিনি পিছন ঘুরে বসে রইলেন। যা বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে ফুটবল বিশ্বের।

আসলে পাওলো ডাপিনা নামের ওই মহিলা ফুটবলার মারাদোনাকে শ্রদ্ধা জানানোর উপযুক্ত মানুষ বলেই মনে করেন না। তাঁর দাবি, ম্যারাডোনা একজন হেনস্তাকারী। তাঁর হাতে বহু মানুষকে বিশেষ করে মহিলাদের অত্যাচারিত হতে হয়েছে, হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তাই তাঁর পক্ষে ফুটবল রাজপুত্রের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা সম্ভব নয়। বরং তিনি তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে চান, যারা ম্যারাডোনার জন্য অত্যাচারিত হয়েছেন। পাওলো ডাপিনার ওই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নাকি মারাদোনা ভক্তরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।

এত গেল শ্রদ্ধা জানানো। তাঁর সম্পত্তি নিয়েও তৈরি হয়েছে বিবাদ। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তাঁর আইনজীবী জানিয়ে ছিলেন, জীবনের শেষ দিকে তিনি নিঃসঙ্গ ছিলেন। মৃত্যুর আগের রাতেও তাঁর পাশে পরিবারের কোনও লোককে দেখা যায়নি। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে তাঁর সম্পত্তির ভাগীদার হতে একাধিক ব্যক্তি হাজির। ইটালির এক সংবাদপত্র জানাচ্ছে, মারাদোনার সম্পত্তির অঙ্ক কষলে হয়তো কম হবে না। কিন্তু নগদের পরিমাণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নেই বললে চলে। শোনা যাচ্ছে মারাদোনার ব্যাঙ্কে যা আছে তা ভারতীয় মুদ্রায় ধরলে ৭৫ লাখ টাকা হবে। মারাদোনার মতো ফুটবল ব্যক্তিত্বের কাছে এই টাকা কিছুই নয়। তবে চিনে রয়েছে তাঁর ফুটবল স্কুল, বুয়েনস আইরেসের অভিজাত অঞ্চলে বিশাল বাড়ি। বেশ কিছু অ্যাপার্টমেন্ট, বিএমডব্লু, অডি, রোলস রয়েসের মতো বিলাসবহুল ছ’টা গাড়ি। এছাড়া ইতালি ও কিউবায় কিছু বিনিয়োগ রয়েছে। সবকিছু ধরলে তাঁর অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১০০ কোটি টাকা।প্রশ্ন হল, নগদ অর্থ তাহলে ম্যারাডোনার নেই কেন? অনেকের ধারণা, ম্যারাডোনাকে অনেকে ঠকিয়ে চলে গিয়েছেন।

ম্যারাডোনার আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি জানিয়েছেন, উদারতার সুযোগ নিয়ে মারাদোনাকে অনেকে বিপথে চালিত করেছেন। এমনিতেই তাঁর আয়কর এখনও বেশ কিছু বাকি। এমনও শোনা গিয়েছে, একবার কর মেটাতে গিয়ে নিজের আংটি পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। আসলে মারাদোনা যা উপার্জন করেছেন তা সঞ্চয় করতে পারেননি। পুমার মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁর চুক্তি ছিল। বেলারুশে ডায়নামো ব্রেস্টে সাম্মানিক প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। মধ্য প্রাচ্যে ফুটবল কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেরিয়ারে তাঁর উপার্জনের তালিকা ছিল দীর্ঘ। তবু দেখা যাচ্ছে সেই সব অর্থ তিনি ধরে রাখতে পারেননি। একদিকে তাঁর মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক দানা বেধেছে। অন্যদিকে অর্থ নিয়েও তাঁর প্রয়াতকালে নেমে এল যাবতীয় সন্দেহ। সত্যিই আর্জেন্টাইন তারকা রয়ে গেলেন রহস্যের গোলকধাঁধায়।