(দিনাজপুর২৪.কম) শোয়েব মালিকের ঝড়ে বড়সড় সংগ্রহই পেয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। রান তাড়ায় খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম হয়ে উঠেন বিস্ফোরক। তার তাণ্ডবে মামুলি হয়ে গেল বড় লক্ষ্যও।

অবশ্য জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন রাইলি রুশো। এর উপর দাঁড়িয়ে ম্যাজিক্যাল ইনিংস খেললেন মুশফিকুর রহিম। মাঝখানে তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন শামসুর রহমান। তাতে রাজশাহী রয়্যালসের জয়রথ থামাল খুলনা টাইগার্স। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজেদের প্রথম ২ ম্যাচে জেতা উত্তরবঙ্গের দলটিকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা। এই নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসরে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচেই জয় পেল দক্ষিণের দলটি। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল তারা।

১৯০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা টাইগার্স। দলীয় ১ রানে আন্দ্রে রাসেলের বলে সোজা বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই জের না কাটতেই আফিফ হোসেনের স্পিন ফাঁদে পড়েন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে রুশো ও মুশফিকের ব্যাটে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে তারা। সময় গড়ানোর সঙ্গে ত্রাস হয়ে ওঠেন এই জুটি। দুজনই স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতে শুরু করেন।

তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ভিত পেয়ে যায় খুলনা। কিন্তু আচমকা থেমে যান রুশো। কামরুল ইসলামের বলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। ফেরার আগে ৩৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় নান্দনিক ৪২ রানের ইনিংস খেলেন এই প্রোটিয়া্। দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়ে যাওয়া রুশো ফিরে গেলেও ছন্দপতন ঘটেনি মুশফিকের। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন তিনি। এরপরও তাণ্ডব চালান মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তাকে দারুণ সমর্থন দেন শামসুর রহমান। তিনিও দুর্দান্ত খেলেন। তাতে জয়ের স্বপ্ন দেখে খুলনা। এই অবস্থায় রাসেলের বলে কাটা পড়েন শামসুর। ফেরার আগে ২০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ রান করেন তিনি।

তবে তাতে জয় পেতে সমস্যা হয়নি খুলনার। ২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে তারা। ফিফটি করে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় ছিলেন মুশফিক। তবে টার্গেট ছুঁতে রান বেশি ছিল না তাদের। তাই লব্ধ সুযোগ কাজে লাগাতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৯৬ রানে বোপারার বলে ফিনিশ হন তিনি। এটিই এবারের আসরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। ৫১ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মুশি। ৫ উইকেটেই ১৯২ রান করে ফেলেন মুশফিক বাহিনী। এটিই এবারের আসরে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। রাজশাহীর পক্ষে রাসেল ঝুলিতে ভরেন ২ উইকেট।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন খুলনা অধিনায়ক মুশফিক। ফলে আগে ব্যাট করতে নামে রাসেলের রাজশাহী। তবে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে শুরুটা শুভ হয়নি তাদের। সূচনালগ্নে মোহাম্মদ আমিরের শিকার হয়ে ফেরেন হযরতউল্লাহ জাজাই। সেই রেশ না কাটতেই ফ্রাইলিঙ্কের বলে আউট হন লিটন দাস (১৯)। এতে রানের চাকা স্লো হয়ে যায়।

সেখান থেকে শোয়েব মালিককে নিয়ে খেলা ধরেন আফিফ হোসেন। ভালোই খেলছিলেন তারা। ফলে চাপ কাটিয়ে ওঠে রাজশাহী। কিন্তু হঠাৎ পথচ্যুত হন আফিফ (১৯)। শহিদুল ইসলামের বলে বিদায় নেন তিনি। পরে রবি বোপারাকে নিয়ে এগিয়ে যান শোয়েব। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন তিনি। পরক্ষণেই খোলস ছেড়ে বের হন পাকিস্তানি রিক্রুট। ধারণ করেন রূদ্রমূর্তি। সহযোদ্ধার কাছ থেকে যোগ্য সমর্থনও পান। একপর্যায়ে জমাট বেঁধে ওঠে তাদের জুটি। তাতে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় রাজশাহী।

এরপর শোয়েব-বোপারা দুজনই সমানতালে তাণ্ডব চালাতে থাকেন। উভয়ই দেখান বুড়ো হাড়ের ভেলকি। খুলনা বোলারদের তুলোধুনো করেন তারা। তাতে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় বরেন্দ্রভূমির দলটি। ফিফটি করে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান শোয়েব। শেষদিকে অতি আগ্রাসী হয়ে খেলতে গিয়ে আমিরের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে খেলেন ৮৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। ৫০ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান পাকিস্তানি রিক্রুট।

নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। বোপারা ২৬ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় খেলেন হার না মানা ৪০ রানের টর্নেডো ইনিংস। অন্য প্রান্তে ৬ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল। খুলনার হয়ে আমির নেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট। -ডেস্ক