(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের আত্রাই নদীর মোহনপুর ব্রিজে টোল আদায় চলছে ২৯ বছর ধরে। মাত্র দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৯০ সালে নির্মিত এ ব্রিজের বর্তমান সময় পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। তার পরও টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিনাজপুরের সাধারণ মানুষসহ পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদীতে দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলার মিলিত স্থানে মোহনপুর ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ১৯৯০ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মোহনপুর এলাকায় যুদ্ধ করেন মো. শামসুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা যে সময় যুদ্ধ করেছি সেই সময় মোহনপুরে কোনো ফেরি চলাচল করত না। যুদ্ধপরবর্তী সময়েও এখানে ফেরি ছিল না। ব্রিজটিতে টোল আদায় বন্ধ করা দরকার। অনেক বছর ধরে মোহনপুর সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর থেকেও দিনাজপুরে আরও বড় সেতুগুলোতে টোল আদায় করা হয় না। সেতুর খরচের থেকেও অনেক বেশি অর্থ এখান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

মোহনপুর বাজার এলাকার মো. ইদ্রিস ইসলাম বলেন, আমরা তো কোনোদিন এ নদীতে ফেরি চলাচল করতে দেখিনি। অনেক আগে দু-একটি নৌকা চলত এখানে। কিন্তু সেগুলোও ব্যক্তিগতভাবে চলত। এর থেকেও অনেক বড় বড় ব্রিজে টোল আদায় হয় না। অথচ এখানে যুগ যুগ ধরে টোল আদায় হচ্ছে। এটা বন্ধ করা উচিত।

টোল আদায়কারী একজন জানান, এবার তিন বছরের জন্য ব্রিজটি লিজ নিয়েছে ঢাকার একটি কোম্পানি। তারা শুধু চালকদের রসিদ দিয়ে টোল আদায় করেন। এর বাইরে তাদের কিছুই জানা নেই।

টোল আদায় বন্ধের দাবিতে দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা মোহনপুর ব্রিজে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্ম

কর্তাদের সঙ্গে কয়েক বার আলোচনা করেছি। পরিবহন মালিকরা টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমরা মোটর পরিবহন শ্রমিকরা টোল দেব না।

এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগ দিনাজপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, মোহনপুর ব্রিজে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত সরকারের। সরকারের গেজেট অনুযায়ী নিয়মনীতি মেনে বর্তমানে ৩ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। সরকার যদি মনে করে টোল আদায় বন্ধ করা হবে, তা হলে এ সিদ্ধান্ত সরকার দিতে পারবে।