(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) পাস হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে লিখিত আশ্বাস চাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। মোদি সরকারের কাছে এমন আশ্বাস চাওয়া হচ্ছে যেখানে উল্লেখ থাকবে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেবে না। একাধিক সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

অপ্রকাশিত সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (এনআরসি) ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নমনীয় মনোভার প্রকাশ করছেন এমন অভিযোগ এনে তার সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ভারতীয় ওই গণমাধ্যমটি মনে করে, এরপরেই এমন দাবি করছে হাসিনা সরকার।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য প্রিন্টকে বলেছে, আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা বাস্তবায়নের পর গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভারত সফরে যান, তখনই বাংলাদেশ সরকার একই ধরণের একটি দাবি জানিয়েছিল।

সূত্র বলছে, সেই সময় বাংলাদেশকে ভারত মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে, আসামে এনআরসি বাস্তবায়নের পর যারা বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তবে লিখিত আশ্বাস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নয়াদিল্লি বলে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামে এনআরসি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

চলতি মাসে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, আইনে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত মুসলিম অভিবাসীদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করতে পারে ভারত।

আইনটি পাস হওয়ার পর কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর আদালতের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যে কারণে লিখিত আশ্বাস দেয়া কঠিন হবে না। তবে তারা বলছেন, এ ধরণের সার্বভৌম নিশ্চয়তা দিয়ে কোনো ধরণের আশ্বাস নয়াদিল্লি ঢাকাকে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার গত ১১ ডিসেম্বর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালে দেশটিতে ক্ষমতায় আসার পর এমন তীব্র বিক্ষোভ এবং বিরোধিতার মুখে প্রথমবারের মতো পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরণের বিধান রাখা হয়নি।

সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভারতে বিভাজন তৈরি করতে এ নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে; যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

বিতর্কিত এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কিছু না বলায় ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের দাবানল বেশি ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। -ডেস্ক