সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন থেকে, (দিনাজপুর২৪.কম) ‘উনি নরেন্দ্র মোদির কাছে গিয়ে ধর্না দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করলেন, এতে তিনি কি অর্জন করলেন।’ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে এমন প্রশ্ন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনের হিল্টন পার্ক লেন হোটেলের থিয়েটার হলে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। হিল্টন পার্ক লেন হোটেলের থিয়েটার হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঐতিহাসিক নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পন্ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানী ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন আর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ট ভুমিকার জন্যে প্রধানমন্ত্রীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী জনগনের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। থিয়েটার হলের উপচে পড়া ভীড় আর হোটেলের বাইরে লবিতে, রাস্তায় অসংখ্য নেতা কর্মী দাঁড়িয়ে থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভৌগলিক ও বিশ্ব রাজনৈতিক অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব ব্যাপক। আমরা সেই গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছি। কিন্তু বিএনপি জামায়াত এই দেশে জঙ্গিবাদ মদদ ও লালন করে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্তির রাজনীতি চালু করতে তৎপর। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।

তিনি খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, উনি নরেন্দ্র মোদির কাছে গিয়ে ধর্না দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করলেন, এতে তিনি কি অর্জন করলেন। এর আগে তিন মাসব্যাপী জ্বালাও পোড়াও করে দুই শতাধিক মানুষ হত্যা ও দেশের সম্পদ রাস্তাঘাট ধবংস করে কি লাভ করলো ? আজকে তারা বলে তাদের ফসল নাকি ভারতের সাথে এই চুক্তি ও বন্ধুত্ব। সারাজীবন ভারত বিরোধী অথচ আজ অন্য কথা। তিনি বলেন ভারতের সাথে যত চুক্তি ও সাফল্য সবই আওয়ামী লীগের আমলে ও আওয়ামী লীগের সাফল্য। সারা বিশ্ব আজ সেটা দেখছে।

সম্বর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন, আপনাদের দেয়া এতো সম্মান আমাকে আজ আবেগাপ্লুত করে ফেলেছে। আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই, আমি জাতির পিতার কন্যা। এটাই আমার সব চাইতে বড় পরিচয়। জাতির পিতার প্রাণের সংগঠন আওয়ামী লীগের নেত্রী। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ বাঙালি জাতির জন্য সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত এক বাংলাদেশ গড়ার কাজ সমাপ্ত করাই আমার স্বপ্ন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক বাধা বিপত্তি আর স্বার্থান্বেষীদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই চলার পথে আপনাদের দোয়ায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক রোল মডেল। আমরা শত প্রতিকূলতা সত্যেও, বিএনপির পেট্রল বোমা ছোড়ে মানুষ মারার পরেও আমরা জিডিপি ৬.৫% উন্নীত করেছি। বিএনপি জামায়াত যদি সন্ত্রাস ও পেট্রল বোমা না মেরে জনজীবনে ভীতি সঞ্চার না করতো তবে আমরা জিডিপি ৭% উন্নীত করতাম। আমাদের যাত্রা অব্যাহত আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই লক্ষ্যে পৌছবো। তিনি বলেন বাংলাদেশ এখন মাথাপিছু আয় হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমরা করছি নিজস্ব অর্থায়নে। এই প্রবাসী আপনারাই আমাকে শক্তি ও সাহস দিয়েছেন। মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক সরে গেলে আপনারাই আমাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন আপনারা লন্ডন প্রবাসীরা সকলে মিলে পদ্মা সেতু করে দিবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম। নেপালের ভুমিকম্পে আমরা তাতক্ষণিকভাবে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছি, আরও ১ লক্ষ টন পাঠাতে পারবো বলেছি।

তিনি বলেন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগীতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ এবং ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একে অন্যের উন্নয়নের অংশীদার ও জনগনের জীবনমান উন্নয়ন করছি। অচিরেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে জড়িত হবে।

সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত এই হোটেলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুলতান শরীফ। পরিচালনা করেন সাজিদুর রহমান ফারুক। সভায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ ব্রিটেনের পার্লামেন্টের পাঁচ জন এমপিও বক্তৃতা করেন। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখতে গিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি নিজের খালার কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা পাবো। আমি আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। টিউলিপ এসময় বলেন, আগামীতে আমি বাংলাদেশ বেড়াতে যাবো এবং প্রথমেই সিলেট তারপর ঢাকায় যাবো।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্ঠা ও তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমাদের স্বপ্ন ব্যাপক, আমরা কাজ সুরু করেছি। এখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা।

সংবর্ধনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

শুরুতেই মান পত্র পাঠ ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সাংবাদিক কলামিষ্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। শেখ হাসিনা এর পরে টিউলিপ সিদ্দিকসহ পাঁচ এমপিকে ক্রেস্টসহ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি উপহার প্রদান করেন। এর পরে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার মাইক গ্যাপস, জো ষ্টিভেন্স, ওয়েস্ট ষ্ট্রিংস, পল স্কালি- এই এমপিদের হাতে ফুলের তোড়া ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনী বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ তুলে দেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান করে। –(ডেস্ক)