(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের আমলে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার অবনতি ঘটেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম নামে একটি সর্বদলীয় স্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা আইএএনএস। ‘ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে দলিত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়। ২০১৪ সালের পর দেশটিতে এই সম্প্রদায়গুলোর ওপর বিদ্বেষসূচক অপরাধ, সামাজিকভাবে একঘরে করা ও বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, ‘কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায় উভয়েই বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর কারণ খুবই অনির্দিষ্ট ও দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত আইন, দুর্বল ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা এবং বিচারিক সঙ্গতির অভাব। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে বিদ্বেষসূচক অপরাধ, সামাজিকভাবে একঘরেকরণ, হামলা ও বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে বিজেপি নেতারা আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, সংঘ পরিবার ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংশ্লিষ্ট হিন্দু জাতীয়তাবাদী গ্রুপগুলোর হাতে সংখ্যালঘুরা সহিংস হামলা ও বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণের শিকার হয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে সাংবিধানিক বিধান এবং জাতীয় ও রাজ্যকেন্দ্রীয় আইন রয়েছে যেখানে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসৃত হয়নি। এর মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৮ অনুচ্ছেদ ও বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৮ ধারা উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, ভারতের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্যিক সহায়তা ও ক’টনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিৎ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত রাখা।
কমিশনের চেয়ারম্যান থমাস জে. রিস বলেন, ‘ধর্মীয়ভাবে বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজ রয়েছে ভারতের। দেশটির একটি সংবিধান রয়েছে যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে সকল নাগরিককে আইনগতভাবে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে, বাস্তবতা খুবই ভিন্ন। ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে গুরুতর হুমকিতে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে, ভারতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার অবনতি ঘটেছে। দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নেতিবাচক পথ থেকে সরে আসতে, ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোকে অবশ্যই তাদের আইনকে দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদ-ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সাংঘাতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বলা হয়, ‘মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ ও জৈনরা শঙ্কিত যে ভবিষ্যতে কী ঘটবে। দলিত সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ও হয়রানি বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার প্রায়ই অগ্রাহ্য করে। জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের আইন ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘণ করা হয়।’ -ডেস্ক