Messi-dinajpur24
Messi-dinajpur24

পাওলো ডিবালার খুব শখ ছিল লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলবেন। শখ কেন, বলা ভালো স্বপ্ন। এত দিন যে কিছুতেই দুজনে মিলে একসঙ্গে খেলা হয়ে উঠছিল না নানা কারণে। অবশেষে ডিবালার স্বপ্ন যেদিন পূরণ হলো, সেটাই তাঁর জন্য হয়ে গেল দুঃস্বপ্নের রাত। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় ছাড়লেন মাঠ। উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ দলের সেরা খেলোয়াড়দের একজনকে ছাড়াই খেলার কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা উতরে গেল। পার করিয়ে দিলেন অভিমানে অবসর নিয়ে আবার রক্তের টানে ফিরে আসা মেসিই।

মেসির একমাত্র গোলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা। এই জয়ে উরুগুয়েকে পয়েন্ট টেবিলেও হটিয়ে দিয়ে শীর্ষে উঠে এল বাউজার দল। ৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন ১৪। উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর; তিন দলেরই পয়েন্ট ১৩। ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের ১২। টানা দুই বছর কোপা আমেরিকা শিরোপা জেতা চিলির পয়েন্ট ১০। সবাই গায়ে গা ঘেঁষে চলছে বলেই এবারের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বের প্রতিটা ম্যাচেই যেন লড়াই হচ্ছে জমজমাট।

আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ে ম্যাচেও তা-ই হচ্ছিল। প্রথমার্ধে খেলা জমে উঠেছিল দারুণ। চোটের কারণে মেসি খেলবেন কি না এমন সংশয় ছিল। বার্সেলোনার বিবৃতি বলে দিচ্ছিল, মেসি খেলুক তারা তা চায় না। তবে মেসি খেলেছেন। প্রথম থেকেই। আর প্রতিটা মুহূর্ত মেসি মেসি স্লোগানে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, মেসি নিজের চুলের রং বদলে ফেলতে পারেন, মেসির প্রতি তাদের ভালোবাসা এতটুকুও বদলায়নি।

ঠিক ৪৩ মিনিটে বক্সের সামান্য বাঁ দিক থেকে ঘিরে ধরা জটলার ভেতর শট নিয়ে গোল করে মেসি বুঝিয়ে দিলেন, বদলাননি তিনিও। উরুগুয়ে ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পাল্টে ঢুকেছে জালে। তবে অন-টার্গেট শট থাকায় গোলটি লেখা হয়েছে মেসির নামেই। গোলটি করার চেয়েও যেভাবে বলটি পেছন দিক থেকে পা বাড়িয়ে রিসিভ করে, মুহূর্তে শরীরের বাঁক বদলে ওই ভিড়েই জায়গা করে নিয়েছেন শট নেওয়া; সেটাই যেন দেখার জন্য ছিল আরও মুগ্ধকর!

এর কিছুক্ষণ পরেই ডিবালার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া মেসির জন্য নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের মঞ্চই যেন তৈরি করে দিল। অথচ ম্যাচে ডিবালার শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ৩০ মিনিটের মাথায় তো দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোলটাই পেলেন না আর্জেন্টিনার এই আগামীর বড় ভরসা। বল পোস্টে লেগে, উরুগুয়ে গোলরক্ষক মুসলেরার পেছনে লেগেও গেল না জালে! পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়ে হয়ে গেল কর্নার। ডিবালা কি তখনো জানতেন, আরও বড় দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে? মেসির সঙ্গে খেলার স্বপ্নটা ৪৫ মিনিটেই শেষ হয়ে যাবে আজকের মতো! আক্রমণভাগে মেসিকে লড়তে হবে একাই!

এভাবে একা একা লড়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন বলেই তো অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন। কী আশ্চর্য, ফুটবল বিধাতা যেন মেসিকে তাঁর ফেরার ম্যাচেও বার্তা দিতে চাইলেন, তোমাকে যা করার একাই করতে হবে বাপু!

দ্বিতীয়ার্ধে মেসিকে কিন্তু উজ্জীবিতই লাগল। ৫২ মিনিটে তাঁর মাঝারি পাল্লার শটটি অবিশ্বাস্যভাবে মুসলেরা বারের ওপরে ঠেলে বাইরে পাঠিয়ে না দিলে এটি হয়ে থাকত মেসির আরও একটি অসাধারণ গোল। ম্যাচটিও ওখানেই শেষ হয়ে যেত।

৪-৪-১ ফরম্যাশনে চলে যেতে বাধ্য হওয়া আর্জেন্টিনা এরপর যেন অনেকটাই রক্ষণের খোলসে ঢুকে গেল। আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, লুইস সুয়ারেজের একটা মুহূর্ত, কিংবা কাভানির জ্বলে ওঠা তাদের সর্বনাশ করে দিতে পারে।

উরুগুয়ে ম্যাচের শেষ কয়েকটা মুহূর্ত একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য আশার কথা, এমন মুহুর্মুহু আক্রমণে এর আগে তাদের রক্ষণ অনেকবারই ভেঙে পড়লেও গত কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে, এই জায়গায় তারা উন্নতি করেছে অসাধারণ। উরুগুয়ে তাই পারল না। সুয়ারেজকে নিষ্প্রভ করে রাখার জন্য আর্জেন্টিনার রক্ষণ, বিশেষ করে ফিউনেস মরি পাবেন বাড়তি নম্বর। আর ১০ জনের দলকে ‘১১ জন’ বানিয়ে রাখতে রক্ষণ থেকে আক্রমণ পর্যন্ত বাড়তি দৌড়ে বেড়ানো হাভিয়ের মাসচেরানোকে দিতে হবে এ প্লাস।

মাসচেরানোর মতো এমন নিজেকে প্রতিটা মুহূর্তে নিংড়ে দেওয়া আর কজন খেলোয়াড় পেলে হয়তো আর্জেন্টিনার গল্পটা গত তিন বছরে অন্য রকমই হতে পারত!