(দিনাজপুর২৪.কম) মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সহকারি পরিচালক ওমর সিরাজসহ (৩২) তিনজনের প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
অন্যরা হলেন- ষ্টোর কিপার রেজাউল করিম (৩২) ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইসহান ইমতিয়াজ (২২)।
আজ রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী রিমান্ড ও জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক আহাদ আলী আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ড চান।
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ একটি চক্র। সরকারের অতিব গুরুত্বপর্ণ এবং গোপনীয় তথ্যসমুহ ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১৫ লাখ, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগের জন্য ৬ লাখ এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চেক অথবা নগদ টাকা নিত বলে জানা গেছে।
তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার করাসহ প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগ, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তর সরবরাহ করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব-৪।

তাঁদের কাছ থেকে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ২০১৪ সালের সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র ২৩টি, একই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুটি, দুই লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৪ লাখ টাকার একটি চেক, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ৩টি মোবাইল ও একটি আইপ্যাড উদ্ধার করা হয়।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় আসামিদের সোপর্দ করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ এর ৪(ক)/৮/৯(ক)(খ)(গ)/১৩ সহ দন্ডবিধির ৪৭৩ ধারায় ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলিমুর কাজী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উই্ং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঈশান ২০১০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোর কিপার রেজাউল চাকরি পাওয়ার পর থেকেই এ কাজ করছে। সহকারি পরিচালক ওমরের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের উত্তরপত্রটিও ফের জমা করার জন্য তার কাছে ছিল। -ডেস্ক