রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান

(দিনাজপুর২৪.কম) কোভিড ১৯-এর নমুনা পরীক্ষা না করেই মেট্রোরেলের ৭৬ শ্রমিকের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ায় রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গতকাল শনিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ইয়াদুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলাম তা মঞ্জুর করেন। ২০ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মেট্রোরেলের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রেজাউল করীম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ও মিজানুরসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মেট্রোরেলে কর্মরত ৭৬ কর্মীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রিজেন্ট হাসপাতাল। এ জন্য মাথাপিছু সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ফলে কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, মেট্রোরেলে শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মামলায় মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শ্রমিকপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা জমা দিয়ে তারা ৭৬ জনের করোনা পরীক্ষা করান রিজেন্ট হাসপাতালে। তিনজনের ফল পজিটিভ ও ৭৩ জনের নেগেটিভ আসে। পরে তারা জানতে পারেন প্রতিবেদন ভুয়া ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০ জুলাই মামলা করেছিল উত্তরা পশ্চিম থানায়।

প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, সরকারের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ, করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। একই দিন উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর পর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল। ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সাহেদ বর্তমানে র‌্যাব হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। পরে তার সহযোগী রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজকেও গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণার মামলায় শনিবার গ্রেপ্তার করা হলো হাসপাতালের এমডি মিজানুর রহমানকে। -ডেস্ক