(দিনাজপুর২৪.কম) রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানি নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে এক গোল খেয়ে হেরে গেছে। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটের মাথায় মেক্সিকোর পক্ষে গোলটি করেন লাজানো। জার্মান কোচ এ ম্যাচে একটু পেছন থেকে খেলা সাজান। নিজেদের অর্ধে মেক্সিকো খেলোয়াড়দের টেনে এনে আক্রমণে ওঠার কৌশল নেন তিনি। কিন্তু প্রথমার্ধে এক গোল খেয়ে তার হিতে বিপরীত হয়। সেখান থেকে আর গোল করে হার এড়াতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

২০১৪ বিশ্বকাপে এক ম্যাচও হারেনি জার্মানি। শেষ করে শিরোপা উচিয়ে ধরে। সেই তারাই প্রথম ম্যাচে পেল হারের স্বাদ। এর আগে অবশ্য ২০০৬ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১০ বিশ্বকাপে এসে বাজে খেলে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়। এরপর ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের অবস্থাও একই হয়েছিল। পরের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লা রোজারা। ব্রাজিলে বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ড থেকে। জার্মানিও সেই পথে এক ধাপ দিয়ে রাখল।

’দ্য টিম’ জার্মানি অবশ্য এ ম্যাচে গোলমুখে দারুণ কিছু আক্রমণ করেছে কিন্তু তা থেকে গোল পায়নি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলটি গোলের লক্ষ্যে পাঁচটি শট নিয়েছে। খুব একটা পিছিয়ে ছিল না মেক্সিকোও। তারা গোল মুখে শট নেয় চারটি। শুরুর ৯ মিনিটের মাথায় বিপদজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় ’দ্য ট্রি’ খ্যাত মেক্সিকো। কিন্তু ঠিক মতো শট নিতে না পারার গোল বারের ওপর দিয়ে যায় বল।

১০ মিনিটের মাথায় আবার আক্রমণ মেক্সিকোর। এবার ঠেকান ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। ১৪ মিনিটে ফ্রি কিক পায় জার্মানি। ভালো জায়গায় ছিল কিন্তু ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ২০ মিনিটে পিএসজি ফরোয়ার্ড ড্রাক্সলার দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ২৮ মিনিটে মেক্সিকো ম্যাচের সেরা সুযোগটা পায়। কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। এরপর ৩৫ মিনিটের মাথায় জাভিয়ের হার্নান্দেজের বাড়ানো বল ধরে দারুণভাবে ভেতরে ঢুকে যায় লাজানো। তার নেওয়া শট ঠেনানোর উপায় জানা ছিল না জার্মান গোলরক্ষকের।

প্রথমার্ধেই দুই দল গোল হওয়ার মতো নয়টি শট নেয়। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমার্ধে এমন আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ দেখেনি ফুটবল। আর সেই আক্রমণ প্রতি আক্রমণে প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে বেশির ভাগ বল নিজেদের পায়ে নিয়ে খেলতে থাকে জার্মানি। ৫৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করার সুযোগ তৈরি করে জার্মানি। তা থেকে হার্নান্দেজের গোল করার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। ৬৫ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে জার্মানি। কিন্তু গোলবারের ওপর দিয়ে যায় কিমিখের শটটি।

৭০ মিনিটে পেনাল্টির আবেদন করে দ্য টিম খ্যাত জার্মানি। কিন্তু হ্যামেলসকে করা ট্যাকলে দোষের কিছু খুঁজে পাননি রেফারি। ৮৪ মিনিটে ক্রুসের দুর থেকে নেওয়া শটটি সহজে ঠেকান মেক্সিকো গোলরক্ষক ওচোয়া। ৮৭ মিনিটে গোমেজের দারুণ এক শট যায় গোলের ওপর দিয়ে। ৮৯ মিনিটে ব্যান্ডি এক আগুনে শট নেন। দুর থেকে নেওয়া তার গতির শটটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকায় মেক্সিকো গোলরক্ষক ওচোয়া। -ডেস্ক