(দিনাজপুর২৪.কম) বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপে আবির্ভূত নোভেল করোনা ভাইরাসের জেরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৭৭২ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফেনী, রাজশাহী, পঞ্চগড়, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত দু’দিনে ১৫ জনের বেশি মারা গেছেন।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৪টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরো ৩৯০ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৭২-এ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো পাঁচজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৯২।

এদিকে নতুন করে যে ১০ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ সাতজন এবং নারী তিনজন। সাতজন ঢাকায় এবং তিনজন ঢাকার বাইরে। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে একজন করে মারা গেছেন। বয়স হিসাবে ষাটোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুজন মারা গেছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৫০ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ৯০০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৫ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ২৪০ জনকে। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩২৭ জনকে।

এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে সাত হাজার ৩৩৯ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ৫৬৭ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন হাজার ১৭২ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৭৬ জন।

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৭ জেলার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া লোকজনের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ২১ জেলায়। আর নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ হয়েছে ইতালি ফেরত প্রবাসীর মাধ্যমে। আক্রান্ত অন্য জেলায় সংক্রমণ হয়েছে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে যাওয়া করোনা রোগীর মাধ্যমে। বেশ কয়েকটি জেলার সংক্রমণের কারণ স্পষ্ট হওয়া যায়নি। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম তিন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এই তিনজনের দুজন ইতালি থেকে দেশে এসেছিলেন। তাদের মাধ্যমেই তৃতীয় ব্যক্তির সংক্রমণ হয়। এই তিন জনই নারায়ণগঞ্জের। এরপরই ঢাকা মহানগরীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। সেই থেকে গতকাল মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫৭ জেলায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।

টাঙ্গাইলে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ এপ্রিল। ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি মির্জাপুর উপজেলা বৈরাগী ভাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায়। শনাক্ত হওয়ার তিন দিন আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে মির্জাপুরের বাড়িতে যান। লোকটি নারায়ণগঞ্জে একটি ক্লিনিকে চাকরি করতেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ জেলার করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৩ জন।

গত ১৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জেলার প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে উপসর্গ নিয়ে নিজের এলাকায় যান। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। সিরাজগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলায় সংক্রমণ হয়। ১১ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।

লালমনিরহাটে প্রথম করোনা পজিটিভ হয় সদর উপজেলায় গোকুন্ডা ইউনিয়নের গুড়িয়া দহগ্রামের এক বাসিন্দার। তিনি নারায়ণগঞ্জে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শনাক্ত হওয়ার তিন দিন আগে ৮ এপ্রিল তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসেন।

দিনাজপুর জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১৪ এপ্রিল। একই দিনে জেলার তিনটি উপজেলার ৭ জন করোনা শনাক্ত হয় বলে জানান দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন হলেন নারায়ণগঞ্জ ফেরত।

চাঁদপুরে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিটি নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া। ওই ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে লকডাউনের মধ্যে ৫ এপ্রিল নৌপথে চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে ৯ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন সাখাওয়াত উল্লাহ।

পিরোজপুরে প্রথম করোনা পজিটিভ হয় মঠবাড়িয়ার এক ব্যক্তির। লকডাউনের মধ্যে তিনি ১০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে পিরোজপুর যান। পরে তার নমুনা পরীক্ষা করলে ১৩ এপ্রিল করোনা পজিটিভ হয়। সিভিল সার্জন হাসনাৎ ইউসুফ জাকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুর প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১২ এপ্রিল। আক্রান্ত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে ফরিদপুরের নগরকান্দা গেলে তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরীক্ষার পজিটিভ আসে। একই দিনে এ জেলায় আরেকজন করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় যান।

পাবনায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ১৬ এপ্রিল। ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন। ওই ব্যক্তি ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসে জ্বর, ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে করোনা ধরা পড়ে।

নরসিংদীতে প্রথম করোনা চিহ্নিত ব্যক্তির বাড়ি জেলার পলাশ উপজেলার ইসলামপাড়া গ্রামে। মুফতি শামীম মিয়া নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তিনি ওই গার্মেন্টসের মসজিদে ইমামতিও করতেন। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি নিজেই ৫ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা করান। পরদিন করোনা পজিটিভ জানতে পারেন। তিনি এরইমধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয় ২০ এপ্রিল। জেলা শহরের পৌর এলাকার দক্ষিণ চরমোহনপুর এলাকার ওই ব্যক্তি ১৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে এলাকায় আসে। ওই সময় তার কোনো উপসর্গ ছিল না। তবে নারায়ণগঞ্জ ফেরত হওয়ায় ওই দিনই তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী পাঠানো হলে পজিটিভ আসে।

বান্দরবানে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ১৫ এপ্রিল। জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোনারপাড়া এলাকার ওই বাসিন্দা কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাবলিগ করে আসেন। আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বয়স ৫৯ বছর।

রংপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার এক যুবকের। রংপুর মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষা করলে গত ৮ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ হয়। এর আগে ওই যুবক নারায়ণগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১১ এপ্রিল। এ জেলায় একই দিনে তিন জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে দুজনের বাড়ি হরিপুর উপজেলার। অন্য একজনের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলায়। সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, আক্রান্ত তিন জনই নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। এদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে।

নড়াইল জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ১৩ এপ্রিল। জেলার লোহাগড়া উপজেলায় শনাক্ত হওয়া ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন।

পটুয়াখালীতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৯ এপ্রিল। বরিশাল বিভাগের মধ্যেও এটি প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা রোগী। তিনি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগে তিনি মারা যান।

ঝালকাঠিতে ১২ এপ্রিল প্রথম তিন জনের করোনা শনাক্ত হয়। তারা তিন জনই একই পরিবারের। স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তান। সম্প্রতি তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঝালকাঠি যান।

নওগাঁর প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। আত্রাই উপজেলার এই বাসিন্দার ২০ এপ্রিল কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। এ ব্যক্তি গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি আসেন। পরে পরীক্ষার ফলাফলে তার নাম নিয়ে বিভ্রান্তি হওয়ায় আবারো পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়।

রাজশাহী জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ১২ এপ্রিল। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া বগুড়াপাড়ায়। কয়েকদিন আগে ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ট্রাকে করে রাতের আঁধারে বাড়ি ফেরেন।

জয়পুরহাটে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ১৪ এপ্রিল। ওইদিন জেলার দুজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্তরা সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে সেখানে যান বলে সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা নিশ্চিত করেন।

গাজীপুর জেলার প্রথম করোনা রোগীও নারায়ণগঞ্জ থেকে সংক্রমণ হয়েছে বলে সোমবার জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি জানান, তার জেলায় নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী একটি কারখানা শ্রমিকের শরীরে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ওই কারখানায় নারায়ণগঞ্জের অনেকে কাজ করেন। তাদের মাধ্যমেই এটা ছড়িয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।

অন্যান্য জেলার প্রথম আক্রান্তের মধ্যে পঞ্চগড়, জামালপুর, লক্ষ্মীপুর, কুড়িগ্রাম ও ফেনীতে ঢাকা থেকে যাওয়া লোকজনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এছাড়া কয়েকটি জেলায় আক্রান্ত হয়েছে প্রবাসীদের মাধ্যমে। কয়েকটি হয়েছে গাজীপুর থেকে।

জেলাভিত্তিক আক্রান্ত: করোনার থাবা সবচেয়ে বেশি পড়েছে রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে। এ বিভাগটিতেও আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। আর করোনার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে। আইইডিসিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৫২ জন। মোট আক্রান্তের ৭২.৫ শতাংশই এ বিভাগে।

ঢাকা বিভাগের আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে এক হাজার ২২৯ জন (৩৬.৩৪ শতাংশ) এবং জেলাগুলোতে এক হাজার ২২৩ জন (৩৬.১৬ শতাংশ)। এছাড়া অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১২৫ জন (৩.৭০ শতাংশ), সিলেট বিভাগে ১৮ জন (০.৫৩ শতাংশ), রংপুর বিভাগে ৫২ জন (১.৫৪ শতাংশ), খুলনা বিভাগে ৯ জন (০.২৭ শতাংশ), ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৯ জন (২.৯৩ শতাংশ), বরিশাল বিভাগে ৬৫ জন (১.৯২ শতাংশ) এবং রাজশাহী বিভাগে ২১ জন (০.৬২ শতাংশ)।

আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ঢাকা মহানগরীতে আক্রান্ত এক হাজার ২২৯ জন। আর ঢাকা জেলায় ৪৮, গাজীপুরে ২৬৯, কিশোরগঞ্জে ১৪৬, মাদারীপুরে ২৬, মানিকগঞ্জে ৯, নারায়ণগঞ্জে ৪৬৯, মুন্সীগঞ্জে ৫৪, নরসিংদীতে ১৩৬, রাজবাড়ীতে ১০, টাঙ্গাইলে ১৩, শরীয়তপুরে ৮ ও গোপালগঞ্জে ৩০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৪১, কক্সবাজারে ৫, কুমিল্লায় ২৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১, ল²ীপুরে ২৫, বান্দরবানে একজন, নোয়াখালীতে ৪, ফেনীতে ৩ জন ও চাঁদপুরে ১০ জন। রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুরে ৭, গাইবান্ধায় ১৩, নীলফামারীতে ৯, লালমনিরহাটে ২, কুড়িগ্রামে ৩, দিনাজপুরে ১৩, পঞ্চগড়ে ১ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৬ জন। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে জয়পুরহাটে ৩, পাবনায় ৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১, বগুড়ায় ২, নওগাঁয় ১, সিরাজগঞ্জে ২ এবং রাজশাহীতে ৯ জন। সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় ৪, মৌলভীবাজারে ২, সুনামগঞ্জে ১ ও হবিগঞ্জে ১১ জন। খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় ৩, যশোর ১, বাগেরহাটে ১, নড়াইলে ২ এবং চুয়াডাঙ্গায় ২ জন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনায় ১৭, বরিশালে ৩২, পটুয়াখালীতে ৭, পিরোজপুরে ৫ ও ঝালকাঠিতে ৪ জন। ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৪০, জামালপুরে ২২, নেত্রকোনায় ১৮ ও শেরপুরে ১৮ জন।

৭৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের-স্বাস্থ্য অধিদফতর: নতুন ৩৯০ জনসহ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট তিন হাজার ৭৭২ জন। আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগর। আর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত জেলা ৫৫টি এবং করোনার আক্রমণ হয়নি ৯ জেলায়।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। তবে ঢাকা মহানগরী ও বিভাগে অনেক বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এর অর্ধেক প্রায় ঢাকা মহানগরীতে এবং বাকি অর্ধেক ঢাকার অন্যান্য জেলায়।

নাসিমা সুলতানা আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪৯২ জন। যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের আছে ৩৬৪ জন। নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। নারায়ণগঞ্জে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬৮১ জন। এরমধ্যে ৫৯৮ জন কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের পর রয়েছে গাজীপুর। এরপরে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা। -ডেস্ক রিপোর্ট