(দিনাজপুর২৪.কম) হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার ও গীতিকার। তাকে বলা হয় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎ। নাটক ও পরিচালক হিসেবেও বেশ সমাদৃত তিনি। নন্দিত এ কথাসাহিত্যিকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার সৃষ্টি করা কয়েকজন তারকাকে নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন- জাহিদ ভূঁইয়া

আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিকের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার সৃজনশীল কাজের দ্বারা অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই হয়েছেন জনপ্রিয়। আর হুমায়ূন আহমেদের হাতেই পরিচিতি লাভ করেছেন, এমন অভিনয়শিল্পীর সংখ্যাও কম নয়। এ তালিকায় প্রথমে আসে নন্দিত কথাসাহিত্যিকের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের নাম। ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘আজ রবিবার’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন তিনি। এর পর হুমায়ূনের নির্দেশনায় শাওন কাজ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (১৯৯৯), ‘দুই দুয়ারী (২০০১), ‘চন্দ্রকথা’ (২০০৩), ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪) ও ‘আমার আছে জল’ (২০০৮)-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সব নাটক ও চলচ্চিত্রে ঘুরেফিরে দেখা যেত তিনজন অভিনেতাকে। তাদের একজন ডা. এজাজুল ইসলাম। পেশায় ডাক্তার হলেও ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অভিনয় করার। হুমায়ূন আহমেদের ‘সবুজ সাথী’ নাটকের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু এজাজের। এর পর একই নির্মাতার ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’ ও ‘আমার আছে জল’ ছবিতে কাজ করেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে ডা. এজাজুল ইসলাম বলেন, “শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয় একটু অন্যভাবে হয়েছে। ওনার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল আমার চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষক ডা. আবদুল করিমের পিজি হাসপাতালের চেম্বারে। আমি গিয়েছিলাম আমার কাজে। গিয়ে দেখি হুমায়ূন স্যার সেখানে বসে আছেন। তারা দুজন একই স্কুলে লেখাপড়া করেছেন একসময়। এর আগে হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি আমার। তার পরও আলাপ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আন্তরিক হয়ে পড়লেন। আমার মেডিক্যালের শিক্ষক একটা কথা বললে হুমায়ূন স্যার কথা বলতেন তিনটা। প্রথম দেখাতেই আমার মনে হলো স্যার আমাকে অনেক মায়া করেন, অনেক ¯েœহ করেন, অনেক ভালোবাসেন। একটা সময় অভিনয়ের প্রতি আমার আগ্রহের কথা স্যারকে জানাই। পরে উনি যখন গাজীপুরে ধারাবাহিক নাটক ‘সবুজ সাথী’র কাজ শুরু করছিলেন, তখন আমাকে ডেকে পাঠান এবং এতে কাজ করার সুযোগ করে দেন।”

হুমায়ূন আহমেদের তিন সৃষ্টির দ্বিতীয় জনের নাম ফারুক আহমেদ। বিটিভি থেকে প্রযোজক শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশা হঠাৎ করেই একদিন ডেকে পাঠান ফারুককে। তখন তাকে ‘অচিন বৃক্ষ’ নাটকে অভিনয় করার জন্য বলেন। যেটি নির্মাণ করবেন হুমায়ূন আহমেদ। কথাটা শুনে এক কথায় রাজি হয়ে যান ফারুক। সে নাটকে এক আশ্রিত লোকের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

এর পর হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় আরও একাধিক নাটকে অভিনয় করেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন স্যারের নাটক মানেই তারকা বানানোর কারখানা। এত বড় মাপের নাট্যকার এ দেশে আর জন্ম হবে কিনা, জানি না।’

হুমায়ূন আহমেদের তিন সৃষ্টির শেষজনের নাম স্বাধীন খসরু। প্রয়াত নাট্যকারের প্রায় সব ক’টি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সূত্র : আ. সময়