(দিনাজপুর২৪.কম) ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সন্ত্রাসবিরোধী আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ। সকাল থেকেই জয় বাংলা স্লোগানে উত্তপ্ত পুরো গুলিস্তান এলাকা। সকাল গড়িয়ে বিকাল। ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। হঠাৎ গ্রেনেডের বিকট শব্দ। মুহূর্তেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় সমাবেশ স্থল। ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকে গ্রেনেডে আঘাতপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রক্তের মধ্যে পড়ে থাকে নিহতদের নিথর দেহ। দলটির নেতারা বলছেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে পূর্বনির্ধারিত এবং ঠাণ্ডা মাথায় গ্রেনেডহামলার মাধ্যমে কিলিং অপারেশন চালায়। সেদিন তাদের মূল টার্গেট ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

মূলত জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা এবং আদর্শ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই ওইদিন পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হামলাটি করা হয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘নেত্রী বললেন আমার মানুষকে বাঁচাও’
২১ আগস্ট। পূর্বনির্ধাতির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য শেষ করবেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন সময় গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে মুহূর্তেই মানুষের রক্তে লাল হয়ে যায় গুলিস্তানের মাটি। চারদিকে বাঁচাও বাঁচাও বলে মানুষের চিৎকার-আহাজারি। এমন সময় খবর পেলাম নেত্রী ভালোভাবেই বাসায় পৌঁছে গেছেন। ছুটে গেলাম নেত্রীর বাসায়। নেত্রীকে বললাম, আমরা এই রক্তের বদলা নিবো।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘাটের ডাক দিবো। কিন্তু নেত্রী বললেন, আমি মানুষের রাজনীতি করি। আগে মানুষ বাঁচাতে হবে, পরে রাজনীতি। হরতাল দিলে মানুষের কষ্ট হবে। আমার জন্য আর কত মানুষ জীবন দিবে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে ঘটে যাওয়া সেই গ্রেনেড হামলার ঘটনা এভাবেই  স্মৃতিচারণ করছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন যুবলীগের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সেদিন মূল টার্গেট ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা। আর এই হত্যার মধ্যে দিয়ে করে দেশে জঙ্গিদের অভায়ারণ্য তৈরি করা। দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণ টিকিয়ে রাখা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিএনপি-জামায়াতের অপশক্তির মূল লক্ষ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবধারায় সামপ্রদায়িক শক্তির উত্থানের ভেতর দিয়ে মৌলবাদী জঙ্গিবাদী শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাকিস্তানে রূপান্তরিত করা এবং ধর্মভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা।

ঠিক একইভাবে ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসমপ্রদায়িক বাংলাদেশের বিনির্মাণের যে শক্তি, সেই শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়া। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করা। এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

‘পূর্বনির্ধারিত কিলিং অপারেশন’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেছেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে পূর্বনির্ধারিত এবং ঠাণ্ডা মাথায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে কিলিং অপারেশন চালায়।

সেদিন তাদের মূল টার্গেট ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্য করে দেশে জঙ্গিদের অভায়ারণ্য তৈরি করে দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণ টিকিয়ে রাখা। রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যলয়ে তিনি ২১ আগস্টে আহত হওয়ার স্মৃতিচারণে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট ছিলো সন্ত্রাসবিরোধী আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ। পূর্বনির্ধারিত ওই সমাবেশ শেষে আমাদের মিছিল করার কর্মসূচি ছিলো। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। একটি ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চে নির্ধারিত সময়েই সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশ শেষ হবে, এমন একটি মুহূর্তে সমাবেশের ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় সমাবেশ স্থল। ওইদিন হামলাকারীদের টার্গেট ছিলো তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

সেদিন সে লক্ষ্যই গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু সেদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে নেত্রীকে ঘেরাও করে রেখেছিল। সে কারণে সেদিন তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সেদিন ট্রাকের উপরে যে সব গ্রেনেড পড়েছিল সেসব গ্রেনেড যদি বিস্ফোরিত হতো তাহলে কেউ বেঁচে থাকতে পারত না। আর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ কোনদিকে যেতো সেটি স্পষ্টভাবে এখন বোঝা যায়।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিএনপি-জামায়াতের অপশক্তির মূল লক্ষ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবধারায় সামপ্রদায়িক শক্তির উত্থানের ভেতর দিয়ে মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাকিস্তানে রূপান্তরিত করা এবং ধর্মভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা।

ঠিক একইভাবে ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশের বিনির্মাণের যে শক্তি, সেই শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়া। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করা।

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর আমরা দেখেছি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কীভাবে দেশে সন্ত্রাসের উত্থান হয়েছে জানিয়ে বাহাউদ্দীন নাছিম আরও বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণ করেছে। সেদিন এত মানুষ রক্তাক্ত হয়েছে, ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কেউ সেই স্থান পরিদর্শন পর্যন্ত করেনি। মূলত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি যুক্ত ছিলো।

২১ আগস্টে আহত ও মৃত্যুবরণকারীদের কোনো সাহায্য করা হয়নি দাবি করে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে মানুষকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা। কিন্তু তারা তা করেনি, বরং দেখা গেছে অন্যদিন যেভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের তৎপরতা থাকতো একুশে আগস্টের দিন সেই তৎপরতা ছিলো না। হসপিটালে হসপিটালে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেয়া হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্তরা যেনো চিকিৎসাসেবা না পায় সেজন্য তারা নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। বোমা মেরে হসপিটাল উড়িয়ে দেয়ার হুমকি-ধমকি দিয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেডের আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেত্রীর বক্তব্য শেষের দিকে। আমি মঞ্চ থেকে নেমে ট্রাকের পাশেই দাঁড়ালাম। এমন অবস্থায় গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু হয়। গ্রেনেড নিক্ষেপ যখন থামলো তখন ধীরে ধীরে গুলি হচ্ছিল, টিয়ার গ্যাসের সিলিং হচ্ছিল। গ্রেনেডের আঘাতে ঘটনাস্থলে আমার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। আমি জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ি। সেই গ্রেনেডের বিকট শব্দে আমি আমার জ্ঞান ফিরে পাই।

চারদিকে রক্ত আর রক্ত, ক্ষতবিক্ষত দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়া অবস্থায় মহিলা আওয়ামী লীগের কিছু নেত্রী আমাকে উদ্ধার করে এবং পাশের বিল্ডিংয়ে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় কিভাবে বেঁচে গিয়েছি এটা আমার জানা নেই। অবশ্য আমি বেঁচে থাকার জন্য হয়তো সৃষ্টিকর্তার বিশেষ সহানুভূতি আমার পক্ষে ছিলো।

গ্রেনেড হামলায় চারদিকে আহত নেতাকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সেই মুহূর্তেও আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই প্রতিবাদ সভা ও মিছিল মিটিং করছিলেন দাবি করেন তিনি আরও বলেন, একটি গ্রেনেডে প্রচুর পরিমাণে স্প্লিন্টার থাকে, যখন আঘাত করে তখন বোঝা যায় না। কিন্তু যখন রক্ত ঝরতে থাকে, তখন তার যন্ত্রণা বোঝা যায়, তার বিষক্রিয়া কী ভয়াবহ।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার অনেক আসামিকে বিদেশে যাওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত সরকার বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করেছে। গ্রেনেড হামলার অনেক আলামত নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। রক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত শরীরের যে সব অংশ পড়েছিল সেগুলো ধুয়ে ফেলা হয়েছে। এগুলো সবগুলোই ছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। যাতে ভবিষ্যতে মামলা হলে কোনো অসুবিধা না হয়।

একুশে আগস্টের হামলাকারীদের রক্ষা করতে এবং তারা যাতে কোনোভাবেই সাজার মুখোমুখি না হয় তার ব্যবস্থা রাখা ও তারা এদেশে স্বাভাবিক জীবনে চলে আসুক সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন বিএনপি ও খালেদা জিয়া এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সবকিছু সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেদিনও জজ মিয়ার মতো ভুয়া নাটক তৈরি করে অনেক মামলাও আমাদের দিয়েছে এবং গ্রেনেড হামলার মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।

‘মুহূর্তেই শরীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল’
এস এম কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের দিন তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

ট্রাকের উপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কামাল হোসেন মঞ্চের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হতেই হঠাৎ একটি বিকট শব্দ অনুভব করেন তিনি।

একের পর এক গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যান। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় তার পুরো শরীর। এমন অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে আলাপকালে এভাবেই বর্ণনা করছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

তিনি বলেন, গ্রেনেডের আঘাতের পর আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ড্রাইভার। তখনো আমার কোনো সেন্স ছিলো না। কিন্তু কোনো ডাক্তার সেদিন এগিয়ে আসেনি। সরকারের ভয়ে কোনো চিকিৎসক ইচ্ছা থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেননি। বহুচেষ্টার পর আমাকে অপারেশন করা হয়েছিল। কিন্তু আমার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তখন নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। দেশ এবং দেশের বাইরে আমাকে যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তার সম্পূর্ণ খরচ তিনি বহন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একটি স্থানে বক্তব্য দেবে অথচ সেখানে আইনশৃঙ্খলার লোক নেই। এ অবস্থায় যখন হামলা হলো, মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হলো। গোটা গুলিস্তান এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থা তৈরি হলো। পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। অথচ সরকার ও তার বাহিনী নীরব ছিলো। উল্টো হামলার পর আলামত নষ্ট করতে পানি দিয়ে সব রক্ত ধুয়ে ফেলা হয়েছিল। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দলের প্রধানসহ হত্যা করার নজির বিরল। ওই ঘটনা সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করে।

এস এম কামাল বলেন, যে শক্তি ৭৫-র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল, সেই একই শক্তি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেডহামলা করেছিল। ওই অপশক্তির মূল লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকন্যা (তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের মূল পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন জিয়া ও তারেক।

যে দেশি-বিদেশি শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল সেই দেশি-বিদেশি শক্তিই ২১ আগস্ট হামলা করেছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা এবং পুরো বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করা। তারা ভেবেই নিয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করা যাবে। কামাল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারের সব অপকর্ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই কারণেই সেদিন ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণের আশা পূরণ হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দ্বারপ্রান্তে। – সূত্র: আ.সংবাদ