(দিনাজপুর২৪.কম) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে ভারি অস্ত্রশস্ত্রসহ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। বৃহস্পতিবার (০১ মার্চ) সকাল থেকেই ওই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে বলে বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুল হক।

বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাদের বাক-বিতণ্ডা হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়নের করে রোহিঙ্গাদের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে সরে যেতে নির্দেশ দিলে রোহিঙ্গাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা হয়।

এসময় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাদের জানিয়ে দেয়, তারা মিয়ানমারের নাগরিক। তারা আরো জানায়, নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে তারা কোনভাবেই বাংলাদেশে যাবে না। তারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাই তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে। মিয়ানমারে তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানায় রোহিঙ্গারা।

এদিকে, শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থায় থেকে টহল জোরদার করেছে। শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ জানান, সকাল থেকে ৭-৮টি ট্রাকে করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তুমব্রু সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অবস্থান নেয়। সীমান্তের পাশে বাংকারগুলোতেও অবস্থান নিয়েছে বর্মী সেনারা। বর্মী সেনাদের সঙ্গে তাদের সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদেরও দেখা গেছে।

জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গা মো. আরিফ জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টারসহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সঙ্গে বিজিপির সদস্যদেরও দেখা যাচ্ছে। এতে করে রোহিঙ্গারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তবে এ অবস্থাতেও কোনো রোহিঙ্গা এখনো সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকতে রাজি হয়নি। তারা বলছে, যদি নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে সরে যেতেই হয়, তবে তারা মিয়ানমারেই যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে অনেক রোহিঙ্গা তুমব্রু সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডে অস্থায়ী ঝুঁপড়ি তৈরি করে আশ্রয় নেয়। পরে সীমান্ত খুলে দিলে বেশিরভাগ বাংলাদেশে ঢুকে পড়লেও ৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা সেখানেই রয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাঁটাতারের বেড়া ঘিরে টহল জোরদার করেছে মিয়ানমারের সেনারা। তারা লাউড স্পিকার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে।

বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মনজুরুল আহসান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পরিস্থিতি নিয়ে আজকে মিয়ানমারের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি তারা। -ডেস্ক