(দিনাজপুর২৪.কম) ভারত হুট করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় দেশের বাজারে চরম সঙ্কট দেখা দেয় পেঁয়াজের। সে সঙ্কট কাটাতে সরকার তাড়াহুড়ো করে মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেয়াজ আনে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে আসা অধিকাংশ পেঁয়াজই পচা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তুষ দেখা গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে আসা দেশটির বেশির ভাগ পেঁয়াজ পচা। এছাড়া বেশির ভাগ পেঁয়াজে গাছও গজিয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়তদারদের অনেকেই মিয়ানমারের পচা পেঁয়াজের বস্তা দোকানের এক পাশে ফেলে রেখেছেন। তারা বলছেন, বস্তা খুলে কিছু পেঁয়াজ ফেলে দিতে হবে। বাকিগুলোর অধিকাংশই অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হবে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে স্বাভাবিক সময়ে দিনে পেঁয়াজের চাহিদা সাড়ে ৩০০ টন। ভারত রফতানি বন্ধ করায় বিকল্প দেশ মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজের বাজার এখন খাতুনগঞ্জের দখলে। তাই সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এ বাজারমুখী হওয়ায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৫০০ টনে। কিন্তু খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টন।

বর্তমান বাজারে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আর মিসর থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজবিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর ভারতীয় মোটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকার মধ্যে।

গত ৮ অক্টোবর টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ৫০০ মেট্রিকটনের মতো পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। তবে এ দিন মিয়ানমার থেকে কোনো পেঁয়াজের ট্রলার আসেনি। এরই মধ্যে পেঁয়াজগুলো ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া শ্রমিকের অভাবে খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে আটটি পেঁয়াজবাহী ট্রলার নোঙর করা রয়েছে।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পচাসহ নিম্ন মানের হলেও অনেক ব্যবসায়ীই নীরব রয়েছেন। তারা চাপের মুখে এসব বিক্রি করছেন এবং অভিযোগ তুলছেন না।

তবে অনেকে জানিয়েছেন, ভারতের রফতানি হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় উর্ধ্বমুখী হয়ে যায় পেঁয়াজের বাজার। চরম সঙ্কট দেখা দেয়। ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিও উঠে যায়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার মিয়ানমার থেকে দ্রুত পেয়াজ আমদানি করে। এ সুযোগে মিয়ানমার পচা ও মানহীন পেঁয়াজ পাঠিয়ে দেয়।

এছাড়া হঠাৎ করে রফতানি বন্ধের খবর আসায় বন্দর এলাকায় আসা ট্রাকগুলো আটকে যায়। যেখানে পেঁয়াজ পচতে থাকে। সেগুলো পরবর্তীতে আবার ছাড় হওয়ায় এ প্রভাব পড়েছে।

অনেক বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা বস্তা খুলে পচা পেয়াজ রোদে দিচ্ছেন যাতে শুকিয়ে শক্ত হয়। যেগুলো একেবারেই উপযুক্ত নয় সেগুলো ফেলেও দিচ্ছেন তারা। এতে অনেক ব্যবসায়ী ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পরেছিলাম, এখন আটকে থাকা পেঁয়াজ দেশটি রফতানি করায় আরেক বিপদের মধ্যে পড়েছি। গত কয়েকদিন ধরে ট্রাকে ত্রিপল দিয়ে পেঁয়াজগুলো আটকে থাকার কারণে গরমে পেঁয়াজের মান নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পেঁয়াজের গাড়ি দিয়ে পানি ঝড়ছে, পেঁয়াজ পচে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। -ডেস্ক