(দিনাজপুর২৪.কম) রোহিঙ্গা নিপীড়নের সংবাদ সংগ্রহের দায়ে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। এ দুই সাংবাদিকের মুক্তির আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার (০৩সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, মিয়ানমারে যে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই সাংবাদিকের দণ্ড হয়েছে তাতে স্পষ্টভাবেই আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে যে বার্তাটি দেওয়া হলো তা হচ্ছে— মিয়ানমারের অন্য সাংবাদিকরা ভয়ডরহীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তাদের বরং নিজে থেকে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওকে (২৮) সোমবার দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইয়াংগনের একটি আদালত। রাখাইনের সেনা অভিযানের সময় ইনদিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার একটি ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন ওই দুই সাংবাদিক।

বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসা এই দুই সাংবাদিক মামলার বিচারের সময় আদালতকে বলেছিলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ইয়াংগনের এক রেস্তোরাঁয় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দুই পুলিশ সদস্য তাদের হাতে কিছু মোড়ানো কাগজ ধরিয়ে দেন এবং তার পরপরই সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মিয়ানমারের একটি আদালত রোহিঙ্গাদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওকে কারাদণ্ড দেয়। সোমবার রাজধানীর ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণ জেলা জজ ইয়ে লইন এ রায় দেন। এ সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করার জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইনে মামলা করা হয়েছে, যে আইনে সর্বোচ্চ সাজা ছিল ১৪ বছরের কারাদণ্ড। -ডেস্ক