(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালামের জঙ্গি আস্তানা থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।তবে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো নারী না পুরুষের তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। সবগুলোই পুড়ে গেছে।’নিহত সাতজনের মধ্যে একজন জঙ্গি আবদুল্লাহ, দুইজন তাঁর সন্তান, দুইজন তাঁর স্ত্রী। বাকি দুইজন তাঁর কর্মচারী বা অন্য কেউ হতে পারে। বুধবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ।

বেনজীর আহমেদ বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৌনে ১০টার দিকে বাড়িটির পঞ্চমতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনটি বিস্ফোরণের ফলে পঞ্চম তলায় আগুন ধরে যায়। এরপর সেই ফ্লোরের দু-তিন ফুট এলাকা গর্ত হয়ে যায়। সেটা দিয়ে রাসায়নিক পদার্থ চারতলায় পড়ে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের কারণে ভবনটির গ্লাস ফেটে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকেই ভবনটিতে ফায়ার সার্ভিস, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করেছে। পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে ৫৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এখনো আছে। তবে চতুর্থ তলায় পানি দিয়ে শীতল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পঞ্চম তলায় পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ এতে আলামত নষ্ট হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে বেনজীর জানান, জঙ্গি আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জেএমবির জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংগঠনে তাঁর পদ ছিল আল আনসার। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন জঙ্গিকে আশ্রয় দেওয়া, অর্থসহায়তা করা। বাসাটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নিহত জঙ্গি নেতা সারওয়ার, তামিমসহ জঙ্গিরা এই বাসায় থাকত।

এর আগে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, জঙ্গি আস্তানার একটি রুম তল্লাশি করে তিনটি দগ্ধ লাশ পাওয়া যায়। লাশ তিনটি নারী না পুরুষের তা সনাক্ত করা যায়নি। র‌্যাব ওই ভবনে ফের অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে ওই বাড়িতে কয়েক দফা বিস্ফোরণ ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় ওই বাড়ি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

এদিকে উদ্ধার অভিযান শুরুর পর পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে টাঙ্গাইলের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্রসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালামের জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলা হয়। মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয় তলা ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন অবস্থান নিয়েছিলেন বলে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান। -ডেস্ক