(দিনাজপুর২৪.কম) চট্টগ্রামে আলোচিত গৃহবধূ মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। গত বছর ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।
ঘটনার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কথিত মূল সংগঠক মুসাকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মুসাকে না পাওয়া পর্যন্ত মিতু হত্যার নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে, ওয়াসিম, আনোয়ার, ভোলা ও শাহজাহান। এছাড়া রাশেদ ও নবী পুলিশের সাথে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। মুসাকে ধরার জন্য পুলিশ ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি মিতু খুন হওয়ার ১৬ দিন পর তার স্বামীকে নগরীর বন্দর এলাকার একটি বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। এরপর মুসাসহ তিনজনকে ঢাকায় নিয়ে বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করা হয়। বাকি দুইজনকে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হলেও মুসাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ মুসার স্ত্রী’র এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
মিতু হত্যাকে কেন্দ্র করে এ রকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর আজো অজানাই রয়ে গেছে। পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা না করে একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেন মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার। নিজে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও স্ত্রী হত্যার বিষয়ে দীর্ঘদিন তিনি মুখ খোলেননি। মিতু খুনের ৬ মাস পর তাকে চট্টগ্রামের ডিবি কার্যালয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে দেখা যায়। স্ত্রী হত্যার ১৯ দিনের মাথায় বাবুলকে ঢাকার মেরাদিয়া ভুঁইয়াপাড়ায় শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ সময় তার চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেন মিতুর পিতা-মাতা। এ সময় তারা গণমাধ্যমের সামনে বাবুল আক্তারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে গায়ত্রী নামে এক ভারতীয় নারী ও এসআই আকরাম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বহ্নির সাথে বাবুল আক্তারের পরকীয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এসআই আকরাম হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তার জড়িত ছিলেন দাবি করে আকরামের বোনেরা সংবাদ সম্মেলন করে। তারা চট্টগ্রামে এসে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করে। তবে মিতু হত্যার সাথে বাবুলের পরকীয়ার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন।
যা বললেন মিতুর বাবা
মিতুর বাবা মো. মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ২০১৩ সালে বাবুলের সাথে গায়ত্রী নামে একটি মেয়ের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। গায়ত্রী মিতুকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। মিতুর কাছ থেকে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে আমি বিষয়টি চট্টগ্রামের কয়েকজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে জানাই। আমি ওই সময় তাদের সহযোগিতা চেয়েছিলাম যাতে বাবুলকে পরকীয়া থেকে নিবৃত্ত করা যায়। মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা মনে করি বাবুলই মিতুকে খুন করিয়েছে। বিষয়টি সে পুলিশের কাছে স্বীকার করায় তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি মিতু হত্যা মামলার চার্জশিটে বাবুলের নাম দেওয়া হোক। পরে বিচারে যা হয় হবে। -ডেস্ক